চট্টগ্রামে ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামে দুই ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেছে চারজনের। এদের মধ্যে দুজন সেফটিক এবং দুজন পানির ট্যাংকে নেমেছিলেন। বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাউজান উপজেলা এবং নগরীর ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় আলাদা দুটি ঘটনা ঘটে।
রাউজানে নিহতরা হলেন প্রদীপ দাশ (৩৫) ও সমীরণ নাথ (২৭)। প্রদীপের বাড়ি রাউজানের কচুখাইন গ্রামে। সমীরণ বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, নির্মাণ শ্রমিক প্রদীপ ও শাহআলম রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া গ্রামে ঝিকুটিপাড়া গ্রামে মিন্টু দাশের বাড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়েছিলেন। প্রথমে শাহআলম ট্যাংকে নামেন। তিনি নেমেই অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রদীপ নেমে তাকে উদ্ধার করেন।
কিন্তু প্রদীপ আর ট্যাংক থেকে উঠতে পারেননি। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে শ্যালক সমীরণ গিয়ে তাকে তোলার জন্য ট্যাংকে নামেন। এলাকার লোকজনের সহায়তায় প্রদীপকে ট্যাংক থেকে তোলা হয়। কিন্তু সমীরণ অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
প্রদীপ ও সমীরণকে নোয়াপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। শাহআলম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে ওসি জানালেন।
সেফটিক ট্যাংকটিও নির্মাণাধীন ছিল বলে জানালেন ওসি সাইফুল ইসলাম। বললেন, ‘সেখানে পানি জমে ছিল। পানি তুলে ট্যাংক খালি করার জন্যই মূলত শাহআলম ও প্রদীপ গিয়েছিলেন। সেখানে বিষাক্ত গ্যাস জমা হতে পারে। যে কারণে তিনজনই ট্যাংকে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
ঘটনাস্থলে যাওয়া রাউজান ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বললেন, ‘ট্যাংকটি ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর ছিল। পানি খুব বেশি ছিল না। তবে ট্যাংকের ভেতর বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’
নগরীর ধনিয়ালাপাড়ায় নিহতরা হলেন সাকিব ও হৃদয়। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর বলে ডবলমুরিং থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন।
ওসি শাহীনুরের ভাষ্য, ‘ধনিয়ালাপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের স্টিলের স্ট্রাকচার অপসারণ করতে দুই নির্মাণ শ্রমিক নেমেছিলেন। সেখানে দুজন অচেতন হয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
‘লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের ধারণা, ট্যাংকের ভেতর গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এরপরও আরও কোনো আলামত আছে কি-না সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’





