তিন ফেডারেশনের শীর্ষ পদে চট্টগ্রামের তিন শিল্পপতি

বাঁ থেকে সেলিম রহমান, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও আবু সাঈদ চৌধুরী বাবলু
প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন শিল্পগ্রুপের তিনজনকে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাও আবার চট্টগ্রামের। তিনজনই দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেনকে। কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমানকে করা হয়েছে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সভাপতি। আবুল খায়ের গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী বাবলুকে মনোনিত করা হয়েছে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডাশেনের সহ-সভাপতি, এর আগেও তিনি একই পদে ছিলেন। সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি হলেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পরামর্শে নামকরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য এই প্রথমবার দায়িত্ব দেওয়া হলো। চট্টগ্রাম থেকে আগে কখনো এতজন ফেডারেশনের দায়িত্ব পাননি। সরকারের ধারণা, এসব শিল্পোদ্যোক্তার সৃজনশীল ধারণা বাস্তবায়ন করতে পারলে সম্ভাবনাময় তিন ইভেন্ট- ব্যাডমিন্টন, সুইমিং ও সাইক্লিংয়ে উন্নতি করা সম্ভব। কারণ, আগে ফেডারেশনগুলোতে নামমাত্র সভাপতি, সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে যাদের রাখা হতো তারা খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর আগামীর সময়কে বললেন, ‘এতদিন ধরে ফেডারেশনের এসব পদগুলোকে আন্ডারগ্রেড করে রাখা হয়েছিল। এখন যাদের করা হয়েছে এদের প্রত্যেকরই প্রতিভা আছে। তারা এটার দাবিদারও। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকেও সম্মানিত করা হলো। কারণ, এসব পদগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনটি খেলাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কিছু করে দেখাতে পারলে সেটি হবে দেশের জন্য দৃষ্টান্ত।’
তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে কেডিএস গ্রুপ নেতৃত্ব দানকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্টিল, ব্যাংক, বীমা খাতে এ গ্রুপের ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে। বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কেডিএস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান পড়াশোনা করেছেন দার্জিলিংয়ের সেন্ট পল'স স্কুল ও আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফেডাশেনের সভাপতি হওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ‘শুনলাম, একটা চিঠিও দেখলাম। কিন্তু কেউ তো আমাকে আগে জানায়নি। দেখা যাক, ফেডারেশনের জন্য কী অবদান রাখা যায়।’
ঢেউটিন, স্টিল, শিপইয়ার্ড, কাঁচ, বিটুমিনসহ ১৭টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে পিএইচপি ফ্যামিলির। বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার উপরে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়। এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লাভজনক প্রতিটি কোম্পানির কর্মীরা ১২টির বেশি বোনাস পেয়ে থাকে। আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন। তিনি আফ্রিকার মহাদেশের রুয়ান্ডার অনারারি কনসাল।
দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী বাবলু সরকারি কমার্স কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করার আগেই পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। স্টিল, ঢেউটিন, সিমেন্ট, গুঁড়ো দুধ, চা, তামাক, কনডেন্সড মিল্ক, সিরামিকসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানালেন, ‘সরকার সত্যিকার অর্থে বড় কর্পোরেট হাউজের সঙ্গে খেলাধুলার একটা যোগসূত্র ঘটাতে চায়। হাউজগুলোর মালিকদের সৃজনশীল মেধা ও আর্থিক সক্ষমতা দিয়ে দেশের খেলাধুলার মান উন্নয়নে কাজে লাগানো ও একই সঙ্গে তাদেরকে সম্মানিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ। আশা করি ভবিষ্যতে এর সুফল পাবে ক্রীড়াঙ্গন।’





