বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ
জনদাবিতে ৫ দিনেই তদন্ত শেষের রেকর্ড

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের আলোচিত মামলা। মাত্র ১৩ দিনে এটির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। সরকারি কার্যদিবস হিসাব করলে পাঁচ দিনেই মামলা পুলিশের কাছ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার গেল আদালতে।
এত দ্রুত কোনো মামলার তদন্ত শেষ করার রেকর্ড চট্টগ্রামে নেই। জনদাবির মুখে স্পর্শকাতর ঘটনাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হয়েছে বলে স্বীকার করলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা।
এ মামলার আসামি মনিরকে আটকের ঘটনায় ২১ মে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে বাকলিয়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। নিজেরাই বিচার করার দাবি তুলে জনতা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘাতের শুরু হয়। মামলার একমাত্র আসামি ২২ মে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি এখন কারাগারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন। সঙ্গে ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান।
একজনকে আসামি ও ১৩ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন ওসি সোলাইমান, ‘আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল ও ডিএনএ প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আসামি মনির ছাড়া আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।’
আসামি মনির হোসেনের (৩০) বাড়ি কুমিল্লায়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ভাই ভাই ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন তিনি। বসবাস ওই এলাকাতেই।
তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের ভাষ্য, মনির শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকোরেশনের গুদামের ভেতর নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে। এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়। সর্বশেষ সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার অভিযোগপত্র নির্ধারিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামীর সময়কে।




