চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক হাব করতে ক্লাস্টার অর্থনীতির রূপরেখা চেম্বার প্রেসিডেন্টের

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক বলেছেন, ইউরোপ ও আসিয়ান ব্লকের মতো ‘ক্লাস্টারভিত্তিক’ অর্থনৈতিক সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ (সেভেন সিস্টার্স), নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের প্রাণকেন্দ্র (রিজিওনাল ট্রেড হাব) হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখাও দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ রুপরেখা জানান।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
৯২ শতাংশের বেশি সমুদ্রগামী পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন করে। চট্টগ্রাম জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং জাতীয় শিল্প উৎপাদনে প্রায় ২২ শতাংশ অবদান রাখে। যেখানে দেশের মোট রাজস্ব সংগ্রহে ২২ শতাংশের বেশির অবদান চট্টগ্রামের। চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে টার্মিনাল— এই তিন অবকাঠামোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে নেপাল, ভুটান, সেভেন সিস্টার্স ও মিয়ানমারের পণ্য পরিবহন সময় ও খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। বিশেষ করে, মাতারবাড়ী থেকে মূল ভূখণ্ডে পণ্য স্থানান্তরে সড়কের পরিবর্তে নৌপথকে অগ্রাধিকার দিলে লজিস্টিকস ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম জানান, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক অর্থনৈতিক বিকাশ ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আসিয়ানের দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পারস্পরিক সংযোগের ভূমিকা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যকর করতে সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক শরীফ আশরাফুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন এলএনজি আমদানি হলেও চাহিদা পূরণে আরও ৭০ লাখ টন প্রয়োজন। এজন্য দুটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, কৌশলগত মজুদ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দেশীয় কয়লার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক জানান, ‘চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনায় ঢাকাকেন্দ্রিকতা রয়েছে।’
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ খাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পেলেও চট্টগ্রাম পেয়েছে ৫ কোটি টাকা।’ উন্নয়ন বরাদ্দে এ বৈষম্যের কারণ জানতে চান। নগরের বিভিন্ন সেবা ও অবকাঠামোর দায়িত্ব একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সমন্বিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তিনি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ঢাকা ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



