সামুদ্রিক পেশাজীবীদের প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার তাগিদ

ছবি: আগামীর সময়
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ সামুদ্রিক পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানালেন মেরিটাইম খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিনিধিরা।
তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে মেরিটাইম খাতে ডিজিটালাইজেশন, সাইবারসিকিউরিটি, স্মার্ট পোর্ট, আধুনিক লজিস্টিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। এ প্রেক্ষাপটে পেশাজীবীদের প্রযুক্তির প্রভাবের ওপর দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।
চট্টগ্রামে ‘দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত দুটি প্রযুক্তিগত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
সমুদ্র পেশায় দক্ষ কর্মী সৃজন এবং স্মার্ট পোর্টের আদলে সমুদ্রভিত্তিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়ে এ দুটি সেমিনার গত শনিবার চট্টগ্রামের হোটেল সেন্টমার্টিনে হয়েছে। এতে দেশের মেরিটাইম খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ, জাহাজ মালিক, বন্দর ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ডিজিটালাইজেশন, সাইবারসিকিউরিটি, স্মার্ট পোর্ট, আধুনিক লজিস্টিকস, ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর মেরিটাইম স্মার্ট চেইনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রথম অধিবেশনে ক্যাপ্টেন মঈন সমুদ্রগামী পেশার বাইরে মেরিনারদের জন্য ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থান ও পেশাগত সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বললেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে সামুদ্রিক পেশাজীবীদের নিয়মিত জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মেরিনারদের পেশাগত সুযোগ এখন শুধু সমুদ্রগামী জাহাজে সীমাবদ্ধ নেই। শোর-বেসড ম্যানেজমেন্ট, মেরিটাইম কমপ্লায়েন্স, কার্গো পরিকল্পনা, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই-চেইন ব্যবস্থাপনা, মেরিটাইম প্রযুক্তি, ডিজিটালাইজেশন, স্মার্ট পোর্ট, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভবিষ্যতের মেরিটাইম খাতে দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ডিজিটাল সক্ষমতা, নেতৃত্ব, অভিযোজন ক্ষমতা এবং নিরাপত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
সেমিনারের দ্বিতীয় অধিবেশনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন নাসির উদ্দিন ‘স্মার্ট পোর্টস’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি আধুনিক বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর, অটোমেশন, স্মার্ট-পোর্ট প্রযুক্তি, সমন্বিত লজিস্টিকস এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ক্যাপ্টেন নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতি মেরিটাইম পেশাজীবীদের গুরুত্ব কমাবে না; বরং তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতের মেরিটাইম কর্মশক্তিকে প্রযুক্তি বোঝা, পরিচালনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’





