চট্টগ্রাম
৫০ বছর বয়সে ৬৭ বার রক্তদান!

চিকিৎসাসেবা দিয়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসকদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তবে চিকিৎসকদের পাশাপাশি এমন কিছু মানুষও আছেন, যারা নীরবে প্রচারের আড়ালে থেকে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের অবদান অনেক সময় আলোচনায় আসে না।
তেমনই একজন মানুষ রক্তদাতা শহিদুল করিম চৌধুরী নিন্টু। ৫০ বছরের জীবনে তিনি মুমূর্ষু রোগীদের জন্য ৬৭ বার রক্তদান করেছেন। নিজের সময়, শ্রম ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করা এই রক্তদান বহু মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। নীরব এই মানবসেবক প্রমাণ করেছেন, একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতাও হতে পারেন অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষার অনন্য সহযোদ্ধা।
তিনি নিজের বয়সের তুলনায় বেশিবার রক্ত দিয়ে রোগীদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছেন। নিন্টু পেশায় ব্যবসায়ী। নাট্যচর্চায়ও জড়িত। চট্টগ্রামের ‘তীর্যক নাট্যগোষ্ঠী’র সদস্য। প্রথম রক্তদান শুরু করেছিলেন ১৯৯৩ সালে।
রক্তদানের শুরুর গল্পটা তার কাছে শোনা যাক। বয়স তখন ১৮। পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেই খবর পেলাম আমার খালু ক্যানসারে আক্রান্ত। তার জন্য রক্তের প্রয়োজন। আমার ‘বি পজেটিভ’ রক্তের সঙ্গে মিলে যায় খালুর রক্ত। সাহস করে প্রথমবার রক্ত দিয়ে ফেলি। সেই থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা গত তিন দশক ধরে চলছে।
রক্তের জন্য মানুষের খোঁজাখুঁজি, দৌড়াদৌড়ি দেখে নিন্টুর মায়া হয়। তখন তাগিদ অনুভব করেন লোকটির সাহায্য দরকার। এ রকম রাতবিরাতে তিনি রক্তের ডাক পেলে ছুটে যান।
তিনি জানালেন, আমি প্রায় সময় রাতের বেলায় রক্ত দিই। কারণ রাত ১২টা, ১টা বা ২টার দিকে যখন রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিত এবং দাতা পাওয়া যেত না, তখন ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করত।’
রক্ত দেওয়া একটি মানবিক দায়িত্ব, যা প্রচার করার প্রয়োজন নেই। রক্ত দেওয়ার পর কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি বিব্রত হন। তাই তিনি রোগীর সামনে সচরাচর যেতে চান না।
শুধু নিজে রক্ত দিয়েই থেমে থাকেননি। তার অনুপ্রেরণায় অনেকে রক্তদানে উৎসাহী হয়েছেন। তারই নাট্যদলের এক কর্মী, যিনি রক্ত দিতে ভয় পেতেন। আজ তিনি একজন নিয়মিত রক্তদাতা (ব্লাড ডোনার)।
তার এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে কিছুটা বিরতি এসেছে তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে। ২০২৩ সালের দিকে সর্বশেষ রক্ত দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেই চিকিৎসাধীন আছেন। তাই এখন আর আগের মতো রক্ত দেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি।
রক্তদান-পরবর্তী সময়ে শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি কাজ করে, সে বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। নিন্টু বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত ঘুম আর মানসিক শক্তি থাকলে রক্তদান শরীরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।’
চিকিৎসকরা জানান, একজন ব্যক্তি ১৮ বছর বয়স থেকে রক্ত দিতে পারেন।





