চসিক মেয়র
পাহাড় কাটার পেছনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাত ছিল

ছবি: আগামীর সময়
বিগত সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় দখল ও কাটার পেছনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরাসরি হাত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ জন্য পাহাড়ধস ও নগরে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে বলে দাবি তার। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য নগরবাসীর অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরের আগ্রাবাদের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ‘আমা কফি দৃষ্টি ব্রেনস্টর্মিং বিজনেস আইডিয়া কনটেস্ট’-এর ১৪তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
বিগত সময়ের ভয়াবহ পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিটি মেয়র বলেছেন, ‘গত দুই বছরে আমার মেয়াদকালে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ এই সময়ে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।’
পাহাড় কাটা বন্ধে নিজের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের চলমান কাজের বিবরণ দেন তিনি।
জলাবদ্ধতার সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। ঢালাওভাবে দু-একটি জায়গায় পানি উঠলেও পুরো চট্টগ্রামের চিত্র কিন্তু এক নয়। কিছু কিছু জায়গায় এখনো পানি ওঠার কারণ হচ্ছে, সেসব এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এখনো শেষ না হওয়া।’ তবে সিডিএ এবং সেনাবাহিনী দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে আর পানি উঠবে না বলে তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
শহরকে গ্রিন, ক্লিন এবং হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ‘নগর সরকার’ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মেয়র।
‘মেক লোকাল, বিজনেস গ্লোবাল’ শিরোনামে চট্টগ্রামের পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের গন্তব্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে জমকালো আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩ জুলাই চট্টগ্রামের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বাছাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করে চারটি দল।
ফাইনালে প্রতিযোগীরা চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রচারণা, ঐতিহ্যনির্ভর পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘দৃষ্টি চট্টগ্রাম’-এর এই আয়োজন তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও গীতিকার আসিফ ইকবাল, নগরপরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি আশিক ইমরান, নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠক শারমীন হোসেন, দৈনিক আগামীর সময়ের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়েস চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এবারের আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথম স্থান (চ্যাম্পিয়ন) অধিকার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। এ ছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দল, চট্টগ্রাম ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের দলগুলোর মধ্যেও পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন চসিক মেয়রসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।




