ভিসি পরিবর্তনের প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ অচল চুয়েট

শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আর শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবি তুলেছেন শিক্ষকরাও।
মধ্যরাত পর্যন্ত মিছিল-সমাবেশে উত্তাল থাকার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুয়েটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আবার বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘোষণা দেন কমপ্লিট শাটডাউনের।
আন্দোলনে থাকা চুয়েটের মেটারিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ মাহমুদ সাজিদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সায়েম স্যারকে আবার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তাকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর নতুন ভিসি নিয়োগ হবে, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। আমাদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।’
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এতে অধিকাংশ শিক্ষক অংশ নেন। অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে যে প্রক্রিয়ায় সরানো হয়েছে সেটা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন শিক্ষকরা। মানববন্ধন থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। চুয়েটের বাসও চলেনি।
চুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সাবেক উপাচার্যকে আবার স্বপদে ফেরত আনার দাবিতে একমত আছেন শিক্ষকরা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৮ জুলাই তিনি দায়িত্ব নেন। ৫৬ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। উপাচার্যকে 'অপসারণ' নিয়ে মধ্যরাতেই মিছিলে-সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাস। বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে শত শত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।




