‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে আকাশের কান্না থেমেছে আট দিন পর। কখনো অঝোর ধারায় আবার মাঝারি কিংবা গুঁড়ি গুঁড়ি ইলশে বৃষ্টি। আকাশ ভার করা মেঘে ঢাকা বৃষ্টিতে মন কখনো উদাস হয়েছে। রোমাঞ্চিত করেছে বিষণ্ন মনকেও। জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি-দুর্ভোগও কম সইতে হয়নি এ কয়দিন। সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে সমানতালে বৃষ্টি নেমেছে। আজ দুপুরের পর থেকে মেঘে ঢাকা আকাশ রূপ নিয়েছে নীল আকাশে। যেন ঝলমলে এক ফালি মিষ্টি রোদ বলছে— ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’।
৪ জুলাই সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে শেষবারের মতো আলো দেখিয়ে মেঘের আড়ালে হারিয়ে গিয়েছিল সূর্য। পরদিন সকাল ৫টা ১৩ মিনিটে সূর্যোদয় হয়; কিন্তু চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা ও ভারী বৃষ্টি থাকায় একটানা প্রায় ১৯৮ ঘণ্টা ধূসর মেঘ আর অবিরাম বৃষ্টির চাদরে ঢাকা ছিল নগরের আকাশ। এই আট দিনে আকাশ থেকে ঝরেছে ১ হাজার ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি। ডুবেছে জনপদ। অকাল মৃত্যু হয়েছে মানুষের।
শীতল আবহাওয়ার পর রোদের উত্তাপ এখন গায়ে লাগছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচল রাস্তাঘাটে। তবে অতিবৃষ্টির ছোঁয়া লেগে আছে রাস্তার কার্পেটিংয়ে। খানাখন্দকে ভরা রাস্তায় চলাচলের সময় শরীর-মন উভয় কেঁপে দিয়ে ওঠে। আবার রাস্তা মেরামতের কাজে কিছু কিছু এলাকায় সক্রিয় আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।
পতেঙ্গার প্রধান আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আপাতত ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা নেই। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।’
এ রিপোর্ট লিখতে লিখতে কড়া রোদের মধ্যে আকাশ আবার হঠাৎ মেঘে ঢাকা পড়ে। এই বুঝি বৃষ্টি নামল। প্রকৃতির খেয়াল প্রকৃতির মতোই যেন অপ্রত্যাশিত।





