ডেঙ্গু-হামে নিয়মিত মৃত্যু, তথ্য প্রকাশে গড়িমসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও হামে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। সর্বশেষ রবিবার শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন হাম উপসর্গ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা যায়। এই দুই রোগের কারণে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুর তথ্য নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে।
মৃত্যুর সঠিক তথ্য এবং নাম-ঠিকানা প্রকাশ না করায় কোন এলাকায় ডেঙ্গু কিংবা হামে মারা যাচ্ছে তা জানতে পারছে না এলাকাবাসী।
ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করার জন্য এলাকাভিত্তিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য জানা জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, যদি এলাকাভিত্তিক আক্রান্ত এবং মৃত ব্যক্তির বয়সসহ নানা তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে লোকজন সতর্ক এবং সচেতন হতে পারবেন। এডিশ মশা বা ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটা ভূমিকা রাখবে।
আজ রবিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজন মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মৃত্যু হওয়া ওই ব্যক্তির ঠিকানা, বয়স কিংবা হাসপাতালে কতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এসংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
একইভাবে আগেরদিন ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যু হওয়া দুই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা, বয়সসহ যাবতীয় তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়। নাম-ঠিকানা জানার জন্য ব্যক্তিগতভাবে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করলেও তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রতিদিন গণমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার হাম ও ডেঙ্গুতে ভর্তি এবং মৃত্যু তথ্য পাঠিয়ে থাকে। কয়েক বছর ধরে এই রেওয়াজ চালু রয়েছে। এতদিন কোভিড-১৯, ডেঙ্গু এবং হামে মারা গেলে রোগীদের নাম-ঠিকানা ও বয়সসহ যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করে আসছিল কার্যালয়টি। কিন্তু এক মাস ধরে এই তথ্য দিচ্ছে না তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। শহরের ডেঙ্গুবাহী এডিশ মশা নিধনে কাজ করে সিটি করপোরেশন। নগরে ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণেও কাজ করে তারা। এ ছাড়া জেলা কীটতত্ত্ববিদও হটস্পট নির্ধারণ করে থাকে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন রানা বললেন, ‘সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সবসময় এলাকাভিত্তিক আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায় না। যদি মৃতের নাম-ঠিকানা থাকে, তাহলে এলাকাবাসী সচেতন হতে পারে। পাশাপাশি আমাদেরও স্পট নির্ধারণে সহজ হয়।’
চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৭৮ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত হামে ৩৩ জন এবং ডেঙ্গুতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। মোট হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯ হাজার ৪৫৪ জন। ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার।



