সীতাকুণ্ডে বাধার মুখে রেলওয়ের উচ্ছেদ স্থগিত

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়ামতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাসের সময় দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে কুমিরা স্টেশনসংলগ্ন পুরাতন সেতু ইয়ার্ড এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান রেলওয়ের কর্মকর্তারা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রেলওয়ের দলটি এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রায় দেড় থেকে দুই’শ বাসিন্দা জড়ো হয়ে বাধা সৃষ্টি করেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বাধার মুখে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের এক মাসের সময় বেধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ দখলদারদের একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে কুমিরা স্টেশন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ডে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই স্থানে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র ও ভূমিহীন। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ তাদের উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া বর্তমানে বন্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে জায়গাটি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান অভিযান স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



