নালার মাটি যাচ্ছে নালায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঘোর বর্ষার মধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে নালা থেকে তোলা হচ্ছে মাটি। একইসঙ্গে প্লাস্টিক-পলিথিনসহ আরও নানা ধরনের আবর্জনা। তুলে ফেলা মাটি-আবর্জনা রেখে দেওয়া হচ্ছে নালার ধারে। দিনের পর দিন পার হয়। সেগুলো আর সরে না। আসলে সরানো হচ্ছে না। বৃষ্টি পড়ছে। সেই মাটিও আবার গিয়ে পড়ছে নালায়।
এ চিত্র চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকার। জলাবদ্ধতা ঠেকাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমা সংস্কার কর্মসূচির আওতায় মাটি-আবর্জনা অপসারণের এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বরাদ্দ দিয়েছে ২৫ কোটি টাকা।
নালা-নর্দমা পরিষ্কারের নামে সিটি করপোরেশনের এমন ‘ছেলেখেলা’ নতুন নয়। আগেও হয়েছে। পরিবর্তন আসেনি এখনও। এসব ছেলেখেলা নগরবাসীকে এখন আর তেমন একটা বিস্মিত করে না। শুধুমাত্র পথ চলতে গিয়ে নগরের নাগরিকদের কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কেন-ইবা নালা থেকে তোলা হচ্ছে মাটি? কেন শুধু শুধু ২৫ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ?
সিটি করপোরেশনের নিয়োগ করা ঠিকাদারদের ভাষ্য, করপোরেশন থেকে গাড়ি চেয়ে সময়মতো না পাওয়ায় নালার ময়লা তুলে রাস্তায় ফেলে রাখতে হচ্ছে। সিটি করপোরেশন অবশ্য ঠিকাদারের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
নগরের পাঁচলাইশ, মুন্সী পুকুর পাড় থেকে বড় গ্যারেজ রোড, চকবাজারসহ আরও কয়েকটি এলাকা ঘুরে নালার ধারে মাটি ও ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। বিভিন্ন আবাসিক ভবন, দোকানপাট, মার্কেটের সামনে অবলীলায় রাখা হচ্ছে ময়লা। দুর্গন্ধে অতীষ্ঠ এলাকার লোকজন।
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে নেই মেডিকেল অফিসার, ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
২৬ জুলাই ২০২৬
বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছে। হাঁটাচলায় ভোগান্তির শেষ নেই। গাড়িও মাড়িয়ে চলছে এসব ময়লা-আবর্জনা। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। একসময় বৃষ্টির পানিতে গড়িয়ে আবার চলে যাচ্ছে সেই নালাতেই।
মুন্সী পুকুর পাড় এলাকার মুদি দোকানি মোহাম্মদ সোয়েব বললেন, ‘আমার দোকানের সামনে এক সপ্তাহ ধরে ময়লাগুলো পড়ে আছে। দেখার কেউ নেই। বৃষ্টিতে কাদা হয়ে যাচ্ছে। দোকানে কেনাকাটার জন্য লোকজন আসতে পারছে না।’
গৃহিণী রোকেয়া বেগম ক্ষোভ জানালেন, ‘নালা পরিষ্কার করে লাভ হচ্ছে কি? বৃষ্টি হলে তো সব আবার নালাতেই যাচ্ছে। ময়লাগুলো বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকায়।’
সিটি করপোরেশনের নিয়োগ করা এক ঠিকাদার বললেন, ‘সিটি করপোরেশন যদি আমাদের গাড়ি না দেয়, আমরা ময়লা নিয়ে যাব কিভাবে ?’
নগরের কিছু এলাকায় নালা পরিষ্কারের জন্য তুলে রাখা স্ল্যাব রাস্তার ওপর রাখা দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নালার কাজ শেষ হলেও স্ল্যাবগুলো আগের জায়গায় রাখা হয়নি। এতে পথচারীদের হাঁটাচলার পাশাপাশি নালাগুলো উন্মুক্ত থাকায় বেশ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বললেন, ‘৮০০ থেকে ৮৫০ ড্রেন পরিস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের কাজ শুধু ড্রেনের ময়লা তুলে রাস্তায় ফেলে রাখা নয়। সেগুলো নিয়ে যাওয়াও তাদের দায়িত্ব। সবকিছুর হিসেব করেই তাদের টাকা দেওয়া হয়। তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে বিল থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।’





