রাউজানে যুবদল কর্মী খুনের ঘটনায় ‘অন্ধকারে’ পুলিশ

রাউজানে যুবদল কর্মী খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি ও এসপি। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিম খুনের একদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকি কারা কীভাবে খুন করেছে এ বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি পুলিশ। তবে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, ‘বাজারে সবার সামনে খুন হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক। আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত করে ৩-৪টা নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে পারলে খুনের মোটিভসহ সবকিছু পরিস্কার হবে।’
নিহত মোহাম্মদ করিম (৩৭) রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে করিমের বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে কেরানীহাট বাজারে তাকে খুন করা হয়। প্রকাশ্য এ হত্যাকাণ্ডের পর বাজারসহ আশপাশের পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই থমথমে পরিস্থিতি এখানো কাটেনি বলে স্থানীয়রা জানান।
এ অবস্থায় আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানালেন, দুপুরে নিহত করিমের স্ত্রী মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে জানালেন, করিমের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। পেট, উরু ও নিতম্বে। একটি গুলি কোমরের পাশ দিয়ে ঢুকে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলি ছাড়াও মাথা-ঘাড়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করিম যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে পদ-পদবি ছিল না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশে ফেরেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দুই বছরে বেশকিছু অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। অন্তত ১০ মামলার আসামি। গত দুই মাস ধরে এলাকায় ছিলেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকায় ফিরেই খুনের শিকার হন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।






