শ্বাসনালি কেটে শিশু খুন, ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষে আসামির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশুর শ্বাসনালি কেটে হত্যার দায়ে একমাত্র আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চতুর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানালেন, মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার দিন থেকে ১৩ সরকারি কার্যদিবসে বিচার শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেছেন।
দণ্ডিত ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধা। থাকতেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টারপাড়ায়। একই এলাকার বাসিন্দা টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতুন নেসা ইরা মনি গত মার্চে নৃশংসভাবে খুন হয়।
মামলার নথির তথ্য, গত ১ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী বাবু শেখ। তাকে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ইরা মনি তার বাবাকে জানাবে বললে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বাসনালি কেটে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। সেদিন দুপুরে সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পুলিশ জানিয়েছিল, বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাবু শেখ।
এ ঘটনায় ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে আলাদা তিন ধারায় আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
বেঞ্চ সহকারী আব্বাসের ভাষ্য, একই মামলায় আসামিকে অপহরণের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে একই আইনের ৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায়ের পর সাজামূলে তাকে কারাগারে পাঠনো হয়েছে।





