কাগতিয়া কামিল মাদরাসার ৯২তম এনামী জলসা অনুষ্ঠিত

জলসায় বক্তব্য দিচ্ছেন (বাঁ থেকে) ডা. শাহাদাত হোসেন, আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর ও মুফতি মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এমএ মাদরাসার ৯২তম এনামী জলসায় বক্তারা বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে কাগতিয়া মাদরাসা। আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে।
গত ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকার গাউছুল আজম সিটিতে মাদরাসার চট্টগ্রাম মহানগর ক্যাম্পাসের সামনের মাঠে এ জলসা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব হযরতুলহাজ আল্লামা অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জালাল আহমদ।
বক্তারা বলেন, প্রিয় রাসুল (দ.) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ। দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে খলিফায়ে রাসুল (দ.) হযরত গাউছুল আজম (রা.) ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একদিকে আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছেন, অন্যদিকে দ্বীনি শিক্ষার বিস্তারেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কাগতিয়া কামিল এমএ মাদরাসার প্রতি হযরত গাউছুল আজম (রা.)-এর গভীর ভালোবাসা ছিল। তিনি বলতেন, 'আমি কাগতিয়া কামিল মাদরাসাকে আমার নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি মুহাব্বত করি' এবং 'আমি যা কিছু পেয়েছি, কাগতিয়া কামিল এমএ মাদরাসার খেদমতের মাঝেই পেয়েছি'। তিনি নিজে মাদরাসার প্রতি ভালোবাসা ধারণ করার পাশাপাশি অনুসারীদেরও প্রতিষ্ঠানটিকে ভালোবাসার অসিয়ত করে গেছেন।
তারা জানান, হযরত গাউছুল আজম (রা.)-এর ভালোবাসার এই আমানত বর্তমানে তার একমাত্র খলিফা ও মাদরাসার অধ্যক্ষের কাছে অর্পিত। বর্তমান অধ্যক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রেখেছে। মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর ক্যাম্পাসেও এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
বক্তারা মাদরাসার অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, নয়নাভিরাম ক্যাম্পাস, দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সুবিশাল খেলার মাঠ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে। বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাচেতনার বিকাশেও এসব সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জলসায় আরও বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ কারিমুল মাওলা ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী ফয়সাল।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। মিলাদ ও কিয়াম শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।





