রাঙামাটি ফিরে বললেন দীপেন- ‘ষড়যন্ত্র বরদাশত করব না’

ছবি: আগামীর সময়
পদত্যাগ করার ঠিক একমাস পর জুলাইয়ের প্রথম দিনেই নিজের শহরে ফিরলেন দীপেন দেওয়ান। অনুসারীদের দীর্ঘ মোটর শোভাযাত্রা শেষে শহরে প্রবেশ করলেন রাজসিকভাবে। দীর্ঘ একমাস পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের একাংশ।
ঢাকা থেকে রাঙামাটি আসার পথে বেতবুনিয়া ও ঘাগড়া এলাকায় শত শত নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মোটর শোভাযাত্রা সহকারে সরাসরি গেলেন কাঠালতলীর দলীয় কার্যালয়ে।
সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। বিএনপিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং হচ্ছে, আমি এখন তা বরদাশত করব না।’
পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বললেন, পাহাড়ি-বাঙালি ভাই ভাই, আমরা সবাই একসাথে থাকতে চাই। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, যাতে আমাদের মধ্যে কেউ বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।
বিএনপির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ও দলের প্রতি নিজের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘বিএনপি আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজ আমাকে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, এই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারব না। আমি সবসময় তৃণমূলের ভাইদের সঙ্গেই থাকব।
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এই সংসদ সদস্য জানালেন, এখন থেকে আমি প্রতিটি উপজেলায় সফরে যাব। এমপি হিসেবে সরকারিভাবে যে বরাদ্দ পাব, সেটি দিয়েই এলাকার সার্বিক উন্নয়নকাজ চলবে।’
দীপেন দেওয়ানের শহরে প্রবেশ বা দলীয় কার্যালয়ের সামনের তাৎক্ষণিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে দীপেন অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুই প্রভাবশালী সহসভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো এবং সাইফুল ইসলাম পনিরসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।
গত ঈদের আগে মে মাসের শেষে সরকারি প্রটোকলে মন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। কিন্তু জুনের এক তারিখে রহস্যময় কারণে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করে দীপেন দেওয়ান একদম চুপচাপ হয়ে যান।




