তরুণদের হাত ধরে বানের জল ঠেলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বাঁশখালীর একটি এলাকা— সংগৃহীত
পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। একের পর এক ত্রাণবাহী ট্রাক ছুটে আসছে বন্যাকবলিত এলাকায়। পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততা দূরে ঠেলে মানবিক সেবায় নেমেছেন বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। নগর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে কেউ ত্রাণ সংগ্রহ করছেন। কেউ ট্রাকে খাদ্যসামগ্রী পাঠাচ্ছেন। আবার কেউ নৌকায় করে বিচ্ছিন্ন জনপদে পৌঁছে দিচ্ছেন বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও শিশুখাদ্য।
স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে সরেজমিনে দুর্গত এলাকায় ছুটছেন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও। দুর্গত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কাজ করছেন তারা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলছিলেন, ‘বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকতে পারিনি। এলাকার ছোট ভাইদের সঙ্গে ত্রাণবাহী গাড়িতে উঠে পড়েছি। যতটুকু পারি বিনামূল্যে অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
অন্যদিকে দুই দফায় ৪ হাজার পরিবারকে সাহায্য পৌঁছানোর তথ্য জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রবিউল। তিনি বলেছেন, ‘বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমতে শুরু করলেও এখনো বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, স্যালাইন, শিশুখাদ্য ও স্যানিটেশন সামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে।’
‘বন্ধু’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য আব্দুল ওয়াহিদ জানান, গত তিন দিনে ১০টি ত্রাণবাহী ট্রাক ও নৌকার মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ উপজেলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের পাশাপাশি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, মসজিদভিত্তিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক দলগুলোও বড় পরিসরে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।





