বরফের দামে আগুন, বাড়ছে ইলিশ সংরক্ষণ খরচ

ছবি: আগামীর সময়
ইলিশের ভরা মৌসুমে বরফের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এর প্রভাব পড়েছে মাছের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। চাহিদা বৃদ্ধিকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বরফের সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ মাছ ব্যবসায়ীদের। ১৫০-২০০ টাকার বরফ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মাছ সংরক্ষণের খরচ বাড়ার পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে মাছের দামেও।
অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোতে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও বেশি ধরা পড়ে। চলমান অমাবস্যার জোতেও মাছ আগের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে বলে ফিশারিঘাট ও রানী রাসমণি ঘাটের মাছের আড়তদাররা জানালেন। ইলিশ নিয়ে সাগর থেকে একসঙ্গে ফিরছে বিপুলসংখ্যক ট্রলার ও নৌকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছ সতেজ রাখতে বরফের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সাগর থেকে একসঙ্গে বেশি মাছ আসায় বরফের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত বরফ না পেলে মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বরফের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ কারণে এখন বেশি দামে বরফ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন মাছের আড়তদার এবং বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা। কাজীর দেউড়ি বাজারের মাছ বিক্রেতা কবির হোসেন বলেছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোতে ইলিশ বেশি ধরা পড়লে বরফের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন বরফের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
আরেক মাছ বিক্রেতা জানালেন, আগে হাফ কোয়ার্টার বরফ কিনতে খরচ হতো ১৫০ টাকা। এখন একই পরিমাণ বরফের জন্য দিতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। তার অভিযোগ, সাগরে মাছ বেশি ধরা পড়লেই বরফের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সারা বছরের ব্যবসা এক মৌসুমে করার চিন্তা করে বরফকলগুলো। এতে মাছের দামে প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেছেন, অনেক সময় বরফের ভেতরে ফাঁপা থাকায় ওজনেও কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাড়তি টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ বরফ মিলছে না। বরফ সংরক্ষণের খরচের কথা চিন্তা করে অনেক খুচরা ব্যবসায়ী প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনছেন বলেও জানালেন তিনি।
তবে বরফকল মালিকদের দাবি, শুধু চাহিদা নয়, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াও দামের অন্যতম কারণ। এজন্য বিদ্যুৎ সংকটকেও দায়ী করেন তারা।
চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার বাটালী রোডের সাফার্স আইচ প্ল্যান্টের মালিক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বছরে ছয় মাস তাদের ব্যবসা চলে। বাকি সময় উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত থাকে। ব্যবসা না থাকলেও ভ্যাট, আয়কর, কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ইলিশের মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বাড়ে। তিনি জানালেন, তারা সরাসরি খুচরা পর্যায়ে বরফ বিক্রি করেন না। কারখানা থেকে ২০০, ২৫০ ও ৩০০ টাকায় বরফ বিক্রি করা হয়। এই বরফ কয়েকটি মাধ্যম ঘুরে তারপর খুচরা পর্যায়ে পৌঁছে।
ইলিশের মৌসুমে ঘাটে মাছের চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে বরফের সরবরাহ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কয়েক ধাপে বরফের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মাছ সংরক্ষণের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। আর শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে মাছের দামে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।



