চট্টগ্রাম
হাম শনাক্তে ল্যাব থাকলেও মিলছে না অনুমতি

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে হামে আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসা চলছে বাবার কোলে। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে করে রোগটি দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে হাম শনাক্তের উপযোগী পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কিট ও সরকারি অনুমতির অভাবে সেখানে এখনো পরীক্ষা শুরু করা যায়নি।
বর্তমানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এসব নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল বা ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে। যার ফলে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগছে।
বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম পরীক্ষার অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কিট চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বিআইটিআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইফতেখার আহমেদ জানালেন, হামের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় ঈদের পর বিষয়টি ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি ও কিট পাওয়া গেলে চট্টগ্রামেই পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হবে। এ জন্য অতিরিক্ত জনবলেরও প্রয়োজন হবে না।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার বলেছেন, ‘বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন। ১ থেকে ৫ বছর বয়সী যেসব শিশু টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে প্রায় এক সপ্তাহ।’
‘হাম পরীক্ষার জন্য বায়োসেফটি লেভেল-৩ মানের ল্যাব প্রয়োজন, যা বিআইটিআইডিতে রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা করা গেলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও দ্রুত করা সম্ভব হতো।’ - যোগ করেন তিনি।
২০২০ সালে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সময় চট্টগ্রামে প্রথম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় বিআইটিআইডির এই পরীক্ষাগারে। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক), ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য স্থানে আরটি-পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে করোনা শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালু হয়। হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে একই ল্যাবে এই পরীক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিআইটিআইডির অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।
তার ভাষ্য, হাম মূলত উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অসম্ভব সংক্রামক এই রোগটি, স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করা গেলে চিকিৎসা দিতে আরও সুবিধা হবে। বিআইটিআইডি ল্যাবে এই পরীক্ষা সম্ভব।
চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক হাম উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগের মধ্যে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে। এই দুই উপজেলায় নতুন করে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বী জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।

