শফিকুর রহমান
বন্যায় বাঁশখালীর লোকেরাই বেশি কষ্টে আছে

বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি আজকে দুটি উপজেলায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তাও একটা অংশ। সব জায়গায় তো আর আমি যেতে পারিনি। যেটুকু দেখলাম, মানুষ দারুণ কষ্টে আছে। তুলনামূলকভাবে বাঁশখালীর লোকেরাই বেশি কষ্টে আছে-এটা আমার বিবেক থেকে বলছি, আমি যা দেখেছি বা বুঝার সুযোগ পেয়েছি। তবে সাতকানিয়াও বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত।’
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার তার এই সফরে দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সমাবেশে বললেন, ‘আমরা ঘোষণা করেছি, আমাদের যুদ্ধ সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, আমাদের যুদ্ধ সব ধরনের লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে।’
এর আগে সকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবির কথা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান।
সংসদে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে শফিকুর রহমান বললেন, ‘আমরা একটা সংগঠন। পার্লামেন্টে আমরা বিরোধী দল, অসুবিধা নেই। এই দেশ শুধু সরকারি দলের না, এই দেশ কোটি মানুষের দেশ। বিভিন্ন আসন থেকে ৯০টি আসনে জনগণ আমাদের সংসদের ভেতরে পাঠিয়েছে। সেখানে বসে বসে আঙুল চোষার জন্য আমাদের পাঠায়নি, পাঠিয়েছে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য।’
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, ‘পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ-আটটা বিভাগের মধ্যে অর্ধেক, চারটাই সাম্প্রতিক বন্যায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’
নিজে সিলেট বিভাগের বাসিন্দা হয়েও চট্টগ্রামে আগে ছুটে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘যেখানেই জনগণের দুর্দশা-দুর্গতি, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখলে আমি সেখানে চলে যাব ইনশাআল্লাহ। আমি এখানে সবার আগে এসেছি, কারণ খোঁজ নিয়ে বুঝতে পেরেছি এই জায়গা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।’
দলীয় ত্রাণ তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আমাদের ভাইদের সিদ্ধান্ত দিয়েছি, বিভিন্ন মানুষের কাছে যান, তাদের প্রতি সহানুভূতি জানান, উদ্ধারকাজে অংশ নিন, যতটুকু পারেন তাদের কাছে আমাদের উপহার পৌঁছে দিন। আমরা এটাকে রিলিফ বলি না। কিসের রিলিফ? এরা আমাদের ভাই-বোন। আমার ভাইয়ের বাড়িতে আমি রিলিফ নিয়ে যাব না। আমি উপহার নিয়ে যাব। আল্লাহ যাকে তৌফিক দেবেন, এটা আমাদের উপহার। বিপদে পড়লে সবাই সমান। আমরা যা পারি তা-ই করব।’
পাহাড়ধসে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করে তিনি বললেন, ‘শুধু এই বিভাগেই ৩৩ জন মানুষ পাহাড়ধসে মারা গেছেন। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছে-এক পরিবারে চারজন মারা গেলেও অসুবিধা নেই, চারজনের প্রত্যেকের জন্যই আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা আগামী তিন দিনের মধ্যেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করব।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সরকারের তহবিল থেকে তাদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করুন। এটা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের এটা সুযোগ, আর সরকারের এটা দায়িত্ব।’
এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবির কথা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলছিলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। আমরা এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি। আমরা জানি প্রজেক্টটা অনেক বড়, সময় লাগবে। কিন্তু আন্তরিকভাবে কাজটা শুরু হোক, দৃশ্যমানভাবে জনগণ এটা দেখতে চায়।’




