চীন-চট্টগ্রাম সরাসরি জাহাজ চলাচল কেমন চলছে

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ চীন থেকে বছরে ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর রপ্তানি করে মাত্র এক বিলিয়ন ডলার। এই ২৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আগে আসতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হয়ে, ঘুরপথে। সরাসরি জাহাজ চলাচল চালুর মাধ্যমে ২৫ দিনের বদলে ১২ দিনে চীন থেকে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে শিপিং লাইনগুলো। কিন্তু ফিরতি পথে চীনে যাওয়ার রপ্তানি পণ্য মিলছে না।
এই রুটে পাঁচটি বিদেশি শিপিং লাইন একক বা যৌথভাবে সরাসরি জাহাজ চালাচ্ছে। চট্টগ্রাম-চীন-চট্টগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহন আমদানি নির্ভর হওয়ায় জাহাজ চলাচল স্থায়ীরূপ পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে চীনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথমবার চীন সফরে যাচ্ছেন। এর আগে এবারের বাজেটে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনোমিক জোন এবং ফ্রি ট্রেড জোন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় বরাদ্দ রেখেছেন। সফর ঘিরে চীনের অর্থায়নে নতুন ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে নতুন গতি পাবে। আর দুদেশের বাণিজ্য বাড়বে-আশা ব্যবসায়ীদের।
চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হকের আশা, ‘সরকার পরিকল্পনা নিয়ে যে গতিতে আগাচ্ছে তাতে এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আগামী দুই বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। আর সেই পণ্য রপ্তানি করতেই শিপিং লাইনগুলো আরো ভালো সার্ভিস দিতে নিজেরাই প্রতিযোগিতায় নামবে। আমাদের ট্রেড লাভবান হবে।’
২০২৫ সালে বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা) পণ্য আমদানি করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ আমদানি ব্যয়, যা দেশের মোট আমদানির প্রায় ২৭ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) মতো।
এই বিপুল পণ্য চীন থেকে দেশে সমুদ্রপথে কন্টেইনারে আনতে প্রয়োজন হয় ৭ লাখ একক কন্টেইনার। আর রপ্তানিতে প্রয়োজন ৩০ হাজার একক কন্টেইনার। এই ব্যবসার পুরোটাই বিদেশি শিপিং লাইনের নিয়ন্ত্রণে। শিপিং লাইনগুলো চীন থেকে আমদানি কন্টেইনার প্রথমে সিঙ্গাপুর, কলম্বো, পোর্ট কেলাংয়ে আনে। সেখান থেকে আরেকটি জাহাজে চট্টগ্রামে আনতে কমপক্ষে ২৫ দিন সময় লাগত।
২০১৮ সালে প্রথম সরাসরি চীন থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করে। প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইন (পিআইএল)। এরপর এই রুটে একে একে যোগ হয় ডেনমার্কভিত্তিক মায়ের্কস লাইন। হংকংভিত্তিক এসআইটিসি, কোরিয়াভিত্তিক সিনোকর-হুন্দাই এবং ফ্রেঞ্চভিত্তিক সিএনসি লাইন। ২০২৪ সালে এই রুটে সার্ভিস চালু করে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মেডিটেরানিয়ান শিপিং লাইন (এমএসসি)। তাদের প্রত্যেকে সপ্তাহে এক থেকে দুটি সার্ভিস চালু রেখেছে।
প্রত্যেকটি সার্ভিসের চীন থেকে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগছে ১২ থেকে ১৫ দিন। এতে বাণিজ্যিক আমদানিকারক তো বটেই তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা নিজেদের কাঁচামাল আনতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
কিন্তু ফিরতি পথে কার্গো না পেয়ে কয়েকটি শিপিং লাইন তাদের সার্ভিস স্থগিত রাখে। যেমন এই রুটের পাইওনিয়ার পিআইএল আপাতত সার্ভিস বন্ধ রেখেছে।
আবার অনেকেই ফিরতি পথে নতুন বিকল্প বন্দর যোগ করে সার্ভিস সচল রেখেছে। এমএসসির হেড অব অপারেশন্স আজমীর হোসাইন চৌধুরী বললেন, ‘চীন থেকে জাহাজভর্তি কন্টেইনার পাবো। ফিরতি পথে রপ্তানি কন্টেইনার পাবো না-এমন বিষয় স্টাডি করেই আমরা এই রুটে সরাসরি জাহাজ চালাচ্ছি। আসা-যাওয়া দুইপথে পণ্য পেলে কন্টেইনার পরিবহন ভাড়া অনেক কম থাকত। এখন আমরা ফিরতি পথে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর বা চীন পর্যন্ত খালি কন্টেইনার পরিবহন করেই খরচ সাশ্রয় করে টিকে আছি।’
ফিরতি পথে আগের তুলনায় ভালো কার্গো পাচ্ছেন বলে জানালেন কেসিবি সার্ভিস পরিচালনাকারী গ্লোবলিংক এসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক চৌধুরী।
তার ভাষ্য, ‘গত ছয় মাসে চীনে আমাদের জাহাজে রপ্তানি হয়েছে ১৮০০ থেকে ২০০০ একক কন্টেইনার। এটা ভালো দিক। আমরা চাই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে। নতুন সরকার যে উদ্যোগ পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে আশা করছি ট্রেড ভলিউম বাড়বে।’




