অর্পিত সম্পত্তির প্রতি ইঞ্চি জমি দখল করেছে আ. লীগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আগামীর সময়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরাই অর্পিত সম্পত্তির নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জমি দখল করেছেন। নিজেদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রক্ষাকর্তা দাবি করলেও তারাই এসব সম্পত্তি দখলে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের জেএম সেন হলে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
বক্তব্যের শুরুতেই অর্পিত সম্পত্তি দখলের বিষয়টি সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘১৯৭২ সালের পর থেকে অর্পিত সম্পত্তির প্রতি ইঞ্চি জমি দখল করেছে আওয়ামী লীগ। নব্বইয়ের দশক থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কোথাও হিন্দুদের সম্পত্তি বাকি নেই। যারা দখল করেছে, তারা আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রী।’
এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৬ সালের একটি সংসদীয় কমিটির কথা উল্লেখ করেন। সালাহউদ্দিনের ভাষ্য, ‘আমি ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলাম। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আমরা তখন এক একর সম্পত্তিও ফেরত দেওয়ার জন্য খুঁজে পাইনি, কারণ সবকিছু আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।’
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,‘বিশ্বজিৎ নিজের পরিচয় দিয়েও রক্ষা পায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। এগুলো সবই তাদের (আওয়ামী লীগ) লোক করেছে।’
বিগত বিএনপি সরকারের উদাহরণ টেনে দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেদখল হওয়া তিন বিঘা জমি উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছিল। এখনো যেসব জমি বেদখল আছে, সেগুলো উদ্ধার করে দেওয়া হবে। কারণ যারা দখল করে রেখেছে, তারা এখন আর ক্ষমতায় নেই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ও রাজনীতির সমালোচনা করেন। ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছি, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ— এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করতে চাই না। আমাদের সবার একটাই পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি নাগরিক’, যোগ করেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে আমরা রাজনীতি করি না। যারা আপনাদের ভোটব্যাংক মনে করত, গত নির্বাচনে আপনারা তাদের সেই ভ্রম ভেঙে দিয়েছেন। একটি পার্শ্ববর্তী দেশের ওপর ভরসা করে ক্ষমতায় থাকার যে রাজনীতি, আমরা তাতে বিশ্বাস করি না।’
দুর্গাপূজায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘এবার সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এবার সর্বোচ্চ ছুটির ব্যবস্থা করেছেন।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন করতে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানেও সব ধর্মের ভাইবোনেরা ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার কথা বলা আছে, আমরা সেটি বাস্তবায়ন করব। কেউ আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারবে না।’
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। আজ তিনি রংপুর ও রাজশাহীর পর চট্টগ্রামের এই মণ্ডপে এসেছেন।
এ সময় মঞ্চে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।



