হাটহাজারীতে ব্যবসায়ীর ভবনে হামলায়ও ‘ডেভিড ইমন’
- ২ সহযোগী গ্রেপ্তার

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা শেষে বীরদর্পে ফিরে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। লাল বৃত্তাকার চিহ্নিত আসিফ। ছবি: সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীসহ তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, দুই সহযোগী গতকাল রবিবার হাটহাজারীর বড়দীঘিরপাড় এলাকায় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায়ও ডেভিড ইমন বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মোহাম্মদ আসিফ (২৫), সাইদুল ইসলাম আরিফ (২৪) ও মোহাম্মদ তালহা (২৫)। এদের মধ্যে আসিফ ও তালহাকে ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
আসিফ ও আরিফকে নগরের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করে। আজ সোমবার সকালে তালহাকে গ্রেপ্তার করে জেলার হাটহাজারী থানা পুলিশ।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল করিম জানালেন, আসিফের কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি ইতালির তৈরি একটি পিস্তল এবং আরিফের কাছে আরও দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। আসিফ পুলিশের ওপর হামলা, চাঁদাবাজিসহ ১১ মামলার আসামি। আরিফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে।
‘গ্রেপ্তারের পর আসিফ নিজেকে ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে দাবি করে। পরে আমরা হাটহাজারীর ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে হামলার সময় তার উপস্থিতি শনাক্ত করি।’
ওসি করিম আরও জানালেন, ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আসিফের নেতৃত্বে নগরীর অক্সিজেন সৈয়দপাড়ার ‘ফটিকছড়ি আবাসিক এলাকায়’ নির্মাণাধীন একটি ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশ পেয়েছে। তবে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ ওই ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
গতকাল সকালে বড়দীঘিরপাড় এলাকায় মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কয়েকবার কল দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।
শুরু থেকেই ডেভিড ইমনের অনুসারী সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করছিল পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানালেন, আসিফ ও তালহা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের সন্দেহ সঠিক প্রমাণ হয়েছে।
তারেক আজিজের ভাষ্য, ‘হামলার ফুটেজ দেখে আসিফকে শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছিলাম। এর মধ্যে বায়েজিদ বোস্তামি থানা তাকে গ্রেপ্তার করে। শনাক্ত হওয়া আরেকজন তালহাকে আমরা গ্রেপ্তার করি। উভয়ে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল করে ব্যবসায়ী জসিমের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। হামলার সময় উভয়ে ঘটনাস্থলে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
‘তালহাকে হাটহাজারীর ব্যবসায়ীর করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসিফকে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইমন। চাঁদার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলার একাধিক ঘটনা আছে।
গত ১৩ জুলাই দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন কল দিয়ে এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়।
নগর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ডেভিড ইমনের নির্দেশ উপেক্ষা করে আসিফ বড়দীঘিরপাড়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসিফকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন ইমন।






