১৪ হাজার ঘর ভেঙেছে, সড়ক ১৩২০ কিলোমিটার

টানা আট দিনের বৃষ্টির পরও চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়কে কোমরসমান পানি। জলাবদ্ধতায় এখনো চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী। সোমবার দুপুরে অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে তোলা— ছবি: রনি দে
বন্যায় চট্টগ্রামে প্রায় ১৪ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক। চট্টগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলা। পুরো জেলায় সাড়ে ৭ লাখ লোক এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে তিনদিন ধরে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পানি রয়ে গেছে। বিশেষ করে চন্দনাইশের দুর্গম ইউনিয়ন ধোপাছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এক সপ্তাহের বেশি ধরে। আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো অন্তত ৩০টি পরিবার বাস করছে। একমাত্র উত্তাল সাঙ্গু নদী পথে পৌনে এক ঘণ্টা নৌকায় চড়ে এই ইউনিয়নে যেতে হচ্ছে।
ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি মাদ্রাসায় এখানকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি সবগুলো পানিতে তলিয়ে যায় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘দোহাজারি থেকে এই ইউনিয়নে আসতে সড়কপথ প্রায় ১৫ কিলোমিটার। কিন্তু বন্যায় যোগাযোগ এখন বন্ধ। চার ওয়ার্ড পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকিগুলোতেও পানি উঠেছে। এখন পানি নামতে শুরু করেছে।’
জেলার অন্যান্য স্থান থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে। ঘর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কালভার্ট, সেতু, দোকানপাট, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। এ ছাড়া মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির একটা তালিকা তৈরি করেছে।
এতে দেখা যায়, বন্যায় জেলায় পাহাড়ধস এবং ভেসে গিয়ে ১৩ জন মারা গেছেন। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ। পুরো জেলার মধ্যে ১৭৬টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬০টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪৮০টি ঘর বিধ্বস্ত হয় সাতকানিয়ায়। এরপর রয়েছে নগরের ২ হাজার ২৪৬টি ঘর।
উত্তর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৬৪০টি বাড়িঘর ভেঙেছে সন্দ্বীপ উপজেলায়। উপজেলাটির ৮০ ভাগ প্লাবিত হয়। এখানে তিনটি শিক্ষাপ্রতষ্ঠিান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৭৪টি।
সবচেয়ে বেশি ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে ৫০টি। এখনো নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকা ও ওয়াজেদিয়া এলাকায় পানি রয়েছে। ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবারও পানি ছিল।
বন্যায় সড়কের বেশি ক্ষতি হয়েছে। নগরে ১২৪ কিলোমিটার সড়ক কমবেশি ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বাঁশখালীতে ৩৫০ কিলোমিটার ও সাতকানিয়ায় ১২৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং পাড়ার গ্রামিণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত তালিকার আওতাভুক্ত।
সবচেয়ে বেশি সাতকানিয়ায় ৮৫ ভাগ এলাকা, হাটহাজারীতে ৮০ ভাগ, আনোয়ারা ও লোহাগাড়ায় ৭০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। এখন পর্যন্ত ৪৬০ টন চালের পাশাপাশি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয় বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতি আরও কিছুটা বাড়বে। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর পুরো চিত্র পাওয়া যাবে।






