বোর্ড থেকে ক্রিকেটার সবাই অপেক্ষায় পুলিশি অ্যাকশনের

‘আমার সঙ্গে যখন নাঈমের দেখা হয় থানায় তখন সে কান্না করে দেয়। কী হয়েছে জানতে চাইতেই নাঈম বলে-ভাইয়া আপনি কল্পনা করতে পারবেন না পুলিশ আমার সঙ্গে কী পরিমাণ খারাপ ব্যবহার করেছে। আমার কাছে ১৫ মিনিট ছিল ভয়াবহ।’
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম সাব্বির আজ শনিবার আগামীর সময়কে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে তার ভাইয়ের সঙ্গে ঘটা ঘটনার কথা এভাবেই বর্ণনা করছিলেন।
গতকাল নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ হেনস্তা ও মারধর করে। এ সময় তিনি বিমানবন্দর থেকে বহদ্দারহাটের বাড়িতে ফিরছিলেন। ঢাকায় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।
বিসিবির পরিচালক সিরাজুদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর আগামীর সময়কে জানালেন, নাঈমের ঘটনায় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ড পরিচালক, জাতীয় দলের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটারদের সংগঠন সবাই সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। তারা ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের আইনি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
নগরের ফরিদার পাড়ায় নাঈমের বাসায় কামরুল আলম সাব্বির বলেছেন, ‘আমি রাত পৌনে ১টায় থানায় যাই। তখন নাঈম আমাকে বলে, পুলিশ রাস্তার ওপর আমাকে গলা টিপে ধরে। প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করে। দুই পুলিশের পাশাপাশি একজন পাঞ্জাবি পরা লোকও আমাকে পেটায়।’
বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে নাঈমের সিএনজি অটোরিকশাটিকে সংকেত দেয় তিন পুলিশ। এসময় পুলিশের সোর্স পাঞ্জাবি পরিহিত সোহেলও ছিলেন। গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি অকারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে জানান সাব্বির। তিনি আরও বলেছেন, পুলিশ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। বিশেষ করে এসআই শফিক, কনস্টেবল রাসেল ও সোহেল। অপর পুলিশ সদস্য কোনো খারাপ আচরণ করেননি।
থানায় পৌঁছার পর প্রথমে সাব্বির সেখানে ঢোকেন। এর কিছুক্ষণ পর নাঈমের বাবা বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ফুটবলার মাহবুব আলম পৌঁছান থানায়। কিন্তু কর্তব্যরত কর্মকর্তা তাকে ঢুকতে দেননি। বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন ১৫ মিনিট।
মাহবুব আলম বলেছেন, ‘আমাকে পুলিশ ঢুকতে দেয়নি। খারাপ ব্যবহার করেছে। আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তা কল্পনা করা যায় না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
নাঈমকে হেনস্তার সময় লালখান বাজার এলাকায় লোকজন জড়ো হয়। অনেকে নাঈমকে চিনতে পারেন। তখন তারাও প্রতিবাদ জানায়। পুলিশ তখন নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় জানিয়ে সাব্বির বলেছেন, ‘স্থানীয় লোকজন পাঞ্জাবি পরা লোকটিকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। তখন আমাদের সামনে ওসি তাকে ওনার পাশে চেয়ারে বসিয়ে রাখেন। পরে জেনেছি তার নাম সোহেল। তিনি পুলিশের সোর্স।’
এই ঘটনার সময় থানা থেকে নাঈম, সাব্বির ও বাবা মাহবুব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল, পরিচালক সিরাজুদ্দীন মুহাম্মদ আলমগীর ও ইসরাফিল খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর সুর নরম হতে থাকে পুলিশের।








