যে সৈকতে গিয়ে সমুদ্রই দেখতে পান না পর্যটকেরা

দামেরিশা একটি উন্মুক্ত জনসাধারণের সৈকত
চীনের শেনঝেন শহরের দামেরিশা সৈকত। ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতে গ্রীষ্মকালে মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে ছুটির দিনে বালুর ওপর পা ফেলার জায়গা খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে সৈকতে প্রবেশকারীর সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সৈকতটি কতটা জনাকীর্ণ হতে পারে, তা বুঝতে অনলাইনে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা পড়লেই চলে। ট্রিপঅ্যাডভাইজারের মতো ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে অনেক পর্যটক ভিড় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, এত মানুষের ভিড় ছিল যে তারা সমুদ্রের পানির কাছেই পৌঁছাতে পারেননি!
দামেরিশা একটি উন্মুক্ত জনসাধারণের সৈকত। এখানে প্রবেশের জন্য সাধারণত কোনো টিকিট লাগে না। তবে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে শেনঝেন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮০ হাজার দর্শনার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সৈকতে যেতে আগাম সংরক্ষণ বা রিজার্ভেশনও করতে হয়।
তবে এই ৮০ হাজার মানুষের সীমাও সংখ্যার বিচারে বিশাল। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে সৈকতটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছন্দে হাঁটাচলা করাই কঠিন হয়ে পড়ে। রোদ পোহানো কিংবা সমুদ্রে সাঁতার কাটার মতো কাজও হয়ে ওঠে দুরূহ।
ভিড় বাড়ার পেছনে পরিবহনব্যবস্থাও
দামেরিশা সৈকতে এত মানুষের সমাগমের পেছনে রয়েছে সহজ যাতায়াতব্যবস্থা। সেখানে যাওয়ার জন্য রয়েছে একাধিক বাস রুট। সবচেয়ে বড় সুবিধা, সৈকতের ঠিক সামনেই রয়েছে একটি মেট্রো স্টেশন। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও এখানে পৌঁছানো সহজ।
বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগও সৈকতটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। সহজ যাতায়াত, কোনো প্রবেশমূল্য না থাকা এবং সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর আকর্ষণ—সব মিলিয়ে গ্রীষ্মকালে এখানে মানুষের ঢল নামে।
সৈকতে রয়েছে দর্শনীয় স্থাপনা
দামেরিশা শুধু সাগরে সাঁতার কাটা কিংবা বালুর ওপর সময় কাটানোর জায়গা নয়। এখানে রয়েছে ভিন্নধর্মী ভাস্কর্য, হাঁটার পথ এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো নানা স্থাপনা। সৈকতের মাঝখানে রয়েছে উইশ টাওয়ার। এর ওপরের পর্যবেক্ষণ মঞ্চ থেকে সমুদ্র ও আকাশের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি ছবি তোলারও জনপ্রিয় স্থান। এ ছাড়া সৈকতের আশপাশে রয়েছে ছোট পার্ক ও সমুদ্রের পাশ দিয়ে তৈরি হাঁটার পথ। এসব সুবিধা সৈকতটিকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি পরিবেশগত উদ্বেগও তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে স্থানীয় পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত দর্শনার্থী এবং দীর্ঘ সময়ের ভারী বৃষ্টির কারণে সৈকতের পানির মানে পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের এলাকা থেকে দূষিত পদার্থ ও আবর্জনা সমুদ্রে চলে যাওয়াও এর একটি কারণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ পানির মান নিয়মিত পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানায়।
অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে পর্যটকদের অভিযোগ থাকলেও দামেরিশার জনপ্রিয়তায় তেমন ভাটা পড়েনি। গ্রীষ্মের ছুটিতে সৈকতটির ছবি নিয়মিত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবিগুলোতে নীল সমুদ্রের পাশে দেখা যায় মানুষের বিশাল সমাবেশ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বালুর সৈকত যেন মানুষের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: শেনঝেনের ইয়ানতিয়ান সরকারের ওয়েবসাইট, আইশেনঝেন




