সম্ভবত

‘এরই নাম কলিকাল! কাঁঠালগাছে ধরবে আম!’ গ্রামীণ জনপদের মুখে একসময় মুড়িমুড়কির মতো ফুটত বচনটি! কে জানত দিন ঘুরলেই একদিন অক্ষরে অক্ষরে ফলবে সেই ভবিষ্যৎ! এমনই হবে নাকি পৃথিবীর ২০৫০ সালের বাস্তবতা। মায়ের গর্ভে নয়, মাছের পোনার মতো বেড়ে উঠবে মানুষের সন্তান। নদী-পুকুরের হাওয়ায়। অ্যাকোয়ারিয়ামের টলমলে নীল জলে! অনাগত সন্তানের আকার-আকৃতি, গতি-প্রকৃতি বুঝতে লাগবে না আলট্রাসনোও। দুই পা বাড়িয়ে ড্রয়িংরুমের অ্যাকোয়ারিয়ামে চোখ রাখলেই দেখা যাবে নিজের বংশধর! মানুষের সন্তান! ২০১৮ সালেই এ ‘পিলে চমকানো’ মন্তব্য করেছিলেন ফেইথ পপকর্ন। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ভবিষ্যৎবিদ। ব্রেইনরিজার্ভের প্রতিষ্ঠাতা। এ নিয়ে সুদীর্ঘ এক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
একদিন মানুষের ঘরের মধ্যেই চলে আসবে হাসপাতাল; চিকিৎসাব্যবস্থা। দূরদর্শী এ মন্তব্যে নব্বই দশকেই আলোড়ন ফেলছেন পপকর্ন। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তি এতটাই এগিয়ে যাবে যে গর্ভধারণ হয়ে উঠবে তখন সেকেলে ব্যাপার! প্রাচীন সংস্কৃতির মতো! আলামতও যে কিছু মিলছে না, তা কিন্তু নয়! গর্ভধারণের অনেক বিকল্প পদ্ধতিও এসেছে মানুষের হাতে। ইংল্যান্ডে ‘টেস্টটিউব বেবি’র চল শুরু হয়েছে আরও আগেই ১৯৭৮ সালে। বিস্ময়ের ঘোড়া ছুটিয়ে আরও চূড়ায় পৌঁছে গেছে বিজ্ঞান। বর্তমানে ল্যাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন অনেক দম্পতি। নিজের জিন থেকে রোগবালাই ফেলে ভালো সব বৈশিষ্ট্য রেখে পছন্দমতো বানানো যাচ্ছে নবজাতকের জিন। প্রযুক্তির এ ঢেউই নাকি মানুষকে নিয়ে যাবে অ্যাকোয়ারিয়ামের ঘাটে! ছোট্ট এই মানবের দেহে যুক্ত থাকবে বিভিন্ন তার, মেডিকেল সরঞ্জাম, যা দিয়ে খাবার-পুষ্টি দু-ই প্রবেশ করবে শরীরে। ঠিক মাতৃগর্ভের মতোই ভেসে থাকবে সে অ্যাকোয়ারিয়ামের পানিতে। হাত-পা নাড়াবে। মুচকি হাসি দেবে। গর্ভের এই মায়াবী খুনসুটি দেখা যায় না। মায়েরাই শুধু টের পান সে অনুভূতি। ছোট ছোট হাত-পায়ে কীভাবে বেড়ে উঠছে আদরের কোমল প্রাণ! কিন্তু তখনকার বিষয়টি হবে ‘অপার্থিব’। অ্যাকোয়ারিয়ামের কাচের ওপারে দাঁড়িয়ে বাবা-মাসহ পুরো পরিবার দেখবে কীভাবে বেড়ে উঠছে বংশের ভ্রূণ। কীভাবে পোনা-পুঁটির মতো ভাসতে ভাসতে মানুষ হয়ে উঠছে অ্যাকোয়ারিয়ামে!
ভবিষ্যতের ডাক্তারি নিয়েও চিন্তা আছে পপকর্নের। রোবট ও ছোট ইলেকট্রিক চিপ দিয়েই নাকি শরীরের অবস্থা জানা যাবে যেকোনো মুহূর্তে। সঠিক যাচাইও হবে রোগের। জ্বর থেকে ক্যানসার— সব অসুস্থতা শরীরে বাসা বাঁধার আগেই জানিয়ে দেবে এসব প্রযুক্তি। চিকিৎসকদের মতো ছোটখাটো ভুলও করবে না ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। ভুল চিকিৎসা থেকে রেহাই পাবে মানুষ!




