বহুতল ভবনের ওপর ঝুলন্ত মহাসড়ক

২৮ ইয়ংক্সিং জি বহুতল ভবন, হাইঝু, গুয়াংঝু, গুয়াংডং, চায়না
একটু কল্পনা করুন তো! আপনি আপনার ড্রয়িংরুমে বসে নিশ্চিন্তে সকালের চা পান করছেন। হঠাৎ করেই মাথার ওপর থেকে ভেসে এলো একটানা এক গোঙানি শব্দ, আর তার সাথে আপনার ঘরের ছাদ ও দেয়াল হালকা কেঁপে উঠল। সাধারণ কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে হয়তো আঁতকে উঠবেন, ভাববেন নিশ্চয়ই কোনো বড় মাপের ভূমিকম্প হচ্ছে অথবা কোনো বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি যদি চীনের গুইয়াং শহরের একটি বিশেষ এলাকার বাসিন্দা হন, তবে এই অনুভূতি আপনার কাছে নিতান্তই ডালভাত। কারণ, আপনার মাথার ঠিক ওপর দিয়েই যে ছুটে চলেছে আস্ত একটি মোটরওয়ে! হ্যাঁ, কোনো রূপকথার গল্প বা সায়েন্স ফিকশন মুভির দৃশ্য নয় এটি। বাস্তবেই এমন এক অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর এবং বিস্ময়কর আবাসস্থলের দেখা মেলে চীনে।শহরের শুইকৌসি ওভারপাস শুইকৌসি ব্রিজের ঠিক নিচেই গড়ে উঠেছে ডজনেরও বেশি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখলে মনে হবে, যেন একটি দৈত্যাকার কংক্রিটের ফিতার নিচে সযত্নে লুকিয়ে আছে আস্ত একটি পাড়া। অদ্ভুত এই স্থাপত্য আর নগর পরিকল্পনার পেছনের গল্পটি হার মানাবে যেকোনো কল্পকাহিনীকেও।
পাহাড়ঘেরা শহরের আবাসন সংকট ও অভিনব এক সমাধান
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশের রাজধানী গুইয়াং। প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষের বাস এই কোলাহলপূর্ণ শহরে। চারপাশ উঁচু-নিচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা থাকায় এই শহরে সমতল ভূমির বড়ই অভাব। নব্বইয়ের দশকে শহরটি যখন অর্থনৈতিকভাবে দ্রুতগতিতে বাড়ছিল, তখন আবাসন এবং পরিবহন—এই দুটি সংকটই প্রকট আকার ধারণ করে। সমতল জায়গা না থাকায় নতুন রাস্তাঘাট কিংবা মানুষের থাকার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা ছিল রীতিমতো এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ করতে ইঞ্জিনিয়াররা একটি এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন, যার নাম দেওয়া হয় শুইকৌসি ব্রিজ।
১৯৯৭ সালের মে মাসে এই সুদীর্ঘ ওভারপাসটির নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য শহরে এমন বিশাল কোনো ব্রিজের নিচের জায়গাগুলো অব্যবহৃতই পড়ে থাকে। কিন্তু গুইয়াং শহরের নগর পরিকল্পনাবিদরা ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া; তারা ভাবলেন ভিন্ন কথা। সে সময় বিমানবন্দর এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য শহরের অনেক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে বহু সাধারণ মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাছাড়া শহরে সাশ্রয়ী মূল্যের বা স্বল্প ভাড়ার বাসস্থানের তীব্র সংকটও ছিল। নগর কর্তৃপক্ষ চাইলে শহরের একদম শেষ প্রান্তে বা শহরতলীতে এই গৃহহীন মানুষগুলোর জন্য আবাসন গড়তে পারতো। কিন্তু তাতে এই নিম্ন-আয়ের মানুষদের প্রতিদিন শহরের কেন্দ্রে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো এবং যাতায়াত খরচও বেড়ে যেত। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকা শুইকৌসি ব্রিজের নিচের বিশাল ফাঁকা জায়গাটিকেই কাজে লাগানো হবে।






