মস্তিষ্ক কতটা বিস্ময়কর? জেনে নিন ১০ বৈজ্ঞানিক তথ্য

প্রতীকী ছবি
আজ বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস। প্রতি বছর ২২ জুলাই পালিত হয় বিশেষ এই দিবসটি। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব নিউরোলজি (ডব্লিউএফএন) এই দিবসটির সূচনা করে। এর উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো। বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘ব্রেইন হেলথ: অ্যাকসেস ফর অল’, অর্থাৎ সবার জন্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
মস্তিষ্ক সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই নানা ভুল ধারণা রয়েছে। আবার এমন কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্যও আছে, যা জানলে এই অঙ্গটির জটিলতা ও বিস্ময়কর ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে ধারণা তৈরি হয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মস্তিষ্ক সম্পর্কে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য।
মস্তিষ্ক সম্পর্কে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য
১. মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই চর্বি
মানবদেহের সবচেয়ে চর্বিযুক্ত অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক। তবে এই চর্বি ক্ষতিকর নয়; বরং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মস্তিষ্কের সামনের অংশ, যা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যুক্তিবোধ নিয়ন্ত্রণ করে, পুরোপুরি পরিণত হতে সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
২. ২৫ বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের বিকাশ চলতে থাকে
মস্তিষ্কের সামনের অংশ, যা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যুক্তিবোধ নিয়ন্ত্রণ করে, পুরোপুরি পরিণত হতে সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
৩. মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা প্রায় সীমাহীন
মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অসংখ্য সংযোগ (সিন্যাপস) তৈরি হয়, যা বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও শেখার সক্ষমতা দেয়।
৪. স্নায়বিক সংকেত ঘণ্টায় ৫৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে
একটি নিউরন সক্রিয় হলে বৈদ্যুতিক সংকেত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এক কোষ থেকে অন্য কোষে পৌঁছে যায়।
৫. মেরুদণ্ড মস্তিষ্কের প্রধান যোগাযোগ সেতু
মস্তিষ্ক শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্দেশ পাঠায় এবং সেখান থেকে তথ্য গ্রহণ করে মেরুদণ্ডের মাধ্যমে। এ কারণেই মেরুদণ্ডে আঘাত গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৬. আমরা মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করি—এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা
আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, ঘুমের সময়ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় থাকে। অর্থাৎ আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো মস্তিষ্কই ব্যবহার করি।
৭. একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ৩ পাউন্ড
গড়ে একজন মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি। পুরুষদের মস্তিষ্ক সামান্য বড় হলেও এর সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার কোনো সম্পর্ক নেই।
৮. ‘ব্রেইন ফ্রিজ’ সত্যিই ঘটে
খুব ঠান্ডা খাবার দ্রুত খেলে মাথায় হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম স্ফেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউরালজিয়া।
৯. এক দানার সমান মস্তিষ্কের টিস্যুতেই রয়েছে প্রায় এক লাখ নিউরন
এত ক্ষুদ্র অংশেও প্রায় এক বিলিয়ন সিন্যাপস থাকতে পারে। ফলে অল্প অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১০. নিউরনের ক্ষতি বড় রোগের কারণ হতে পারে
স্ট্রোকে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ মারা যায়, আর পারকিনসনস রোগে নির্দিষ্ট ধরনের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। তাই মস্তিষ্কের যত্ন ও দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সুস্থ মস্তিষ্ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সবার মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব নিউরোলজি, নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন





