গুহা পেরিয়ে সাঁতরে যেতে হয় যে সৈকতে

এই সৈকতের জন্ম পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়।
মেক্সিকোতে এখন বিশ্বকাপের উন্মাদনা। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে যাচ্ছেন দেশটিতে। কিন্তু খেলার ফাঁকে যদি কেউ মেক্সিকোর আরেকটি বিস্ময় দেখতে চান, তবে তার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত মারিয়েতাস দ্বীপপুঞ্জের ‘হিডেন বিচ’ বা লুকানো সৈকত। এমন এক সৈকত, যেখানে যেতে হলে শুধু টিকিট কিনলেই হয় না—লাগে বিশেষ অনুমতি, আর পৌঁছাতে হয় সমুদ্রের গুহা পেরিয়ে সাঁতরে!
সমুদ্রের বুকে লুকিয়ে থাকা এক স্বপ্নসৈকত
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালিয়ার্তার কাছে অবস্থিত মারিয়েতাস দ্বীপপুঞ্জ। জনমানবহীন এই দ্বীপগুলো প্রকৃতির এক অনন্য ভাণ্ডার। প্রবাল, রঙিন মাছ, স্বচ্ছ নীল জল আর বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর কারণে এলাকাটি বহু বছর ধরেই সংরক্ষিত।
এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ‘প্লায়া দেল আমোর’ বা ‘লাভার্স বিচ’, যা বেশি পরিচিত হিডেন বিচ নামে। সৈকতটি আসলে একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটারের ভেতরে অবস্থিত। চারপাশে উঁচু পাথুরে দেয়াল, ওপরে খোলা আকাশ—দেখলে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই গোপন কোনো রাজ্য তৈরি করে রেখেছে।
তবে এই সৈকতের জন্ম পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়। বিশ শতকের শুরুতে মেক্সিকান সেনাবাহিনীর বোমা পরীক্ষার ফলে দ্বীপে যে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল, পরে সমুদ্রের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় তা আজকের এই বিস্ময়কর রূপ নেয়।
কেন এত কড়াকড়ি?
মারিয়েতাস দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে একটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক অভয়ারণ্য। এখানে রয়েছে বহু বিরল প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাস। বিশেষ করে বিখ্যাত নীল-পা-ওয়ালা পাখি ব্লু-ফুটেড বুবি এখানে প্রজনন করে।
পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রতিদিন মাত্র সীমিতসংখ্যক পর্যটককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পুরো দ্বীপ এলাকায় দিনে ৬২৫ জনের বেশি দর্শনার্থী যেতে পারেন না। আর হিডেন বিচে প্রবেশের সুযোগ পান মাত্র ১১৬ জন। ফলে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অনুমতি সংগ্রহ করতে হয়।
দ্বীপের আশপাশে মাছ ধরা, শিকার করা, প্রবাল স্পর্শ করা কিংবা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাওয়াও নিষিদ্ধ। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা নৌকায় টহল দেন।
গুহা পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় সৈকতে
হিডেন বিচে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটাই যেন এক রোমাঞ্চকর অভিযান। ছোট নৌকায় করে দ্বীপের কাছে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের হেলমেট দেওয়া হয়। এরপর সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে একটি প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গুহা সাঁতরে পার হতে হয়।
গুহার অন্ধকার অংশ পেরিয়ে সামনে এগোতেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য—সাদা নরম বালু, হালকা অ্যাকোয়া রঙের জল আর চারদিকে বৃত্তাকার পাথুরে দেয়াল। যেন পৃথিবীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা আরেক পৃথিবী।
আজকের পৃথিবীতে যেখানে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রায়ই ভিড়ে ঠাসা, সেখানে মারিয়েতাস দ্বীপপুঞ্জের হিডেন বিচ যেন এক ব্যতিক্রম। কঠোর সংরক্ষণনীতি আর সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে জায়গাটি এখনো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছে।
সূত্র: মিডলজার্নি ডট কম






