হরমুজ সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা, বৈঠক ডাকছে ব্রিটেন-ফ্রান্স

হরমুজ সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা, বৈঠক ডাকছে ব্রিটেন-ফ্রান্স
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
সম্ভাব্য বহুজাতিক প্রতিরক্ষামূলক নৌ-মিশন গঠনের বিষয়ে এ সপ্তাহেই যৌথভাবে একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে দেশ দুটি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটি ‘শান্তিপূর্ণ বহুজাতিক মিশন’ গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত মোতায়েন হবে পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর বাইরে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই এই মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক নৌ চলাচলে প্রভাব ফেলছে বড় ধরনের এবং বাড়িয়ে দিচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথভাবে একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করবে, যেখানে সংঘাত-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সুরক্ষায় সমন্বিত আলোচনা হবে বহুজাতিক পরিকল্পনা নিয়ে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। এর আগে যুক্তরাজ্য একই লক্ষ্য সামনে রেখে ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের একত্র করেছিল, যদিও সেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি।
স্টারমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে না এবং কোনো সংঘাতে জড়াতেও চায় না। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের বন্দরসংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচলের ওপর কার্যকর হবে মার্কিন অবরোধ এবং এতে অন্য দেশগুলোকেও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় অনেক দেশ এতে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, কারণ এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
জার্মানিও ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এই উদ্যোগে অংশ নেবে না। দেশটির মতে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট এবং নতুন কোনো বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে নয়।
মাখোঁ এই যৌথ উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, টেকসই সমাধানের জন্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান রেখে দেশটিকে স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। ফ্রান্স এ ধরনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্যোগে পূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পিত এই বৈঠককে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের বিকল্প একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যার লক্ষ্য সংঘাত প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে নিরাপদ রাখা।
















