কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা
২০০ জনের বিরুদ্ধে দুই দিন পর মামলা

নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয়েছে দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ।
তিনি জানান, পীরের দরবারে হামলার ঘটনায় উস্কানির বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে অভিযোগ করেন। অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়েছে মামলা হিসেবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জেরে পীরের দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং বেলা ১১টা থেকে পুলিশ দরবার এলাকায় অবস্থান নেয়।
তবে বেলা ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবারে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
দাফন সম্পন্ন
ময়নাতদন্ত শেষে গত রবিবার বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর রাজাপাড়া ঈদগাহে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যা মামলাটি করা হলো।

