যেভাবে তৈরি হয়েছিল ‘মেলায় যাই রে’

মাকসুদের ফেসবুক থেকে
বৈশাখের প্রথম দিনে পথে নামলেই আপনার কানে যে গান ভেসে আসবে তা হলো ‘মেলায় যাই রে।’ ‘লেগেছে বাঙালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা, লেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয়ে মাতন দোলা; বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাতে, ফিরে এলো সুরেরই মঞ্জরি; পলাশ শিমুলগাছে লেগেছে আগুন, এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি, মেলায় যাইরে, মেলায় যাইরে...।’
পহেলা বৈশাখের অপরিহার্য গান এটি। অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না এই গানের পেছনের মানুষটি মাকসুদুল হক। যিনি সংগীত মহলে মাকসুদ নামে পরিচিত। অনেকেই ফিডব্যাকের মাকসুদ বলেন। যদিও ফিডব্যাক ছেড়ে নিজেই গড়েছিলেন ব্যান্ডদল মাকসুদ ও ঢাকা। এখন তিনি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে থাকছেন কানাডায়।
যাহোক, ‘মেলায় যাই রে’ গানের বয়স আজ ৩৬ বছর পূরণ হলো। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত এই গানের আবেদন এখনো কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে বেশ প্রাসঙ্গিক। পহেলা বৈশাখে এই গান দেশের সবখানেই বাজতে থাকে। এই গান নির্মাণের পেছনের গল্পটা কেমন ছিল?
মাকসুদ বলেছিলেন, ‘আমরা গানটি করি ১৯৮৭ সালের শেষ দিকে। এটা তৈরির সময় আমাদের মধ্যে হাতাহাতি বাদে সবই হয়েছে। পুরো গান শেষ করতে ছয় মাস সময় লেগে যায়। ১৯৯০ সালে যখন আমরা গানটি গাওয়া শুরু করি, তখনো টুকটাক কিছু পরিবর্তন করি।’
এই গান নির্মাণের গল্প নিজেই সমকাল পত্রিকায় লিখেছিলেন মাকসুদ। ২০১৮ সালে প্রকাশিত সে লেখায় মাকসুদ উল্লেখ করেন, ‘১৯৯০ সালে বিটিভির “আনন্দমেলা” অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম উপস্থাপন করেন তাঁরা। এই গান প্রচারের কিছুদিন পর গানটি অ্যালবাম আকারে প্রকাশের জন্য অনুরোধ আসতে থকে। অবশেষে “মেলা” অ্যালবামে গানটি রাখা হয়।’
“মেলা” অ্যালবামে গান প্রকাশের পর মানুষ গানটিকে গ্রহণ করে ফেলে। গানের জন্মকথা প্রসঙ্গে মাকসুদ তাঁর লেখায় এ–ও উল্লেখ করেছিলেন, ‘কত সময় ব্যয় করে এর কথা লিখেছি, তার সঠিক হিসাব-নিকাশ হয়তো এখন দেওয়া সম্ভব নয়। এটুকু মনে আছে, গানে সেই চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি, যা প্রতি বৈশাখে আমাদের চোখে পড়ে। অনেক শব্দের কাটিকুটি শেষে বেরিয়ে এসেছিল কিছু ছন্দোবদ্ধ কথা। লেখা শেষে নিজেই তাতে সুর বসিয়েছি। এরপর ফিডব্যাকে সদস্যদের সঙ্গে বসেছি কম্পোজিশন নিয়ে। বাদ্য বাদনেও অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এরপর কণ্ঠে তুলি নিয়েছি গান। গেয়েছি মনপ্রাণ উজাড় করে।
মাকসুদ উল্লেখ করেন, স্টুডিওতে গিয়ে রেকর্ড করা পর্যন্ত একটি গানের পেছনে কত সময় ব্যয় করতে হয়, তার লেখাজোখা থাকে না। কারণ, সংগীত কোনো কাজ নয়, একধরনের সাধনা। যাঁরা গান করেন, তাঁরা ভালো করেই জানেন, প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে কতটা শ্রম-ঘাম ঝরাতে হয়। যা হোক, “মেলা” গানটি রেকর্ড করার পর আমি, ফোয়াদ নাসের বাবু, পিয়ারু খান, লাবু রহমান, সেকেন্দার আহমেদ খোকা—প্রত্যেকেই অন্য রকম এক সৃষ্টির স্বাদ পেয়েছিলাম।’
দ্বিতীয়বারের মতো কানাডার টরেন্টোতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছেন মাকসুদ। সেখান থেকেই লিখেছেন, আমার দেশমাতৃকা ভালো নেই। নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘‘অমঙ্গলের’ পক্ষের শক্তি মঙ্গল শোভাযাত্রা চাইবে না- এটাই স্বাভাবিক। তবে বছর ঘুরে এই দিনটা যখন আসলই - আত্মায় একটা ভয়াবহ মোচড় অনুভব করছি। মনে করিয়ে দিলো আমার দেশমাতৃকা ভালো নেই । সেই দুঃখ লালন করেই সবাইকে প্রাণঢালা শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।’’

