কিশোরগঞ্জ
১৭ বছর ভাত না খেয়ে ইনু মিয়া, বৈশাখে ভাঙলেন প্রতিজ্ঞা

ইনু মিয়ার বাড়িতে প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভাত মুখে তোলেননি তিনি। এক সময়ের ক্ষোভ, অপমান আর প্রতিবাদের প্রতিজ্ঞা বুকে নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের এতগুলো বছর। অবশেষে পহেলা বৈশাখের দিনে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। ভাত মুখে তুলে নিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের প্রবীণ বাসিন্দা ইনু মিয়া।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম জগৎচর এলাকায় ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে নিজ হাতে ভাত খাওয়ান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে একটি নির্বাচনী কেন্দ্রকে ঘিরে সহিংস ঘটনার শিকার হন ইনু মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীর হাতে তিনি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি শপথ নেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তার প্রতিজ্ঞায় অটল থাকেন। ভাত পরিহার করে পুড়ি, সিঙ্গারা, বড়া, চিড়া, মুড়ি ও রুটির মতো খাবার খেয়েই জীবনযাপন করেছেন। পরিবার-পরিজনের অসংখ্য অনুরোধেও সিদ্ধান্ত থেকে একচুল নড়েননি তিনি। এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও প্রতিজ্ঞা ভাঙেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ইনু মিয়া তার শপথ থেকে সরে আসেননি। তিনি অপেক্ষা করছিলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধি নিজে এসে তাকে ভাত খাওয়াবেন। অবশেষে পহেলা বৈশাখের দিন সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
ইনু মিয়া বলেছেন, ‘১৭ বছর আগে ভোট দিতে গিয়ে বাধা পাই। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করা হয়। তখনই প্রতিজ্ঞা করি, নির্দিষ্ট পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ভাত খাব না। আজ সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙলাম।’
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম জানান, বহু চেষ্টা করেও স্বামীকে ভাত খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, নানা ভাবে বোঝানোর পরও কিছুই কাজে আসেনি। হঠাৎ ভাত খাওয়া বন্ধ করায় মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তিনি সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
স্থানীয় যুবদল নেতা রমিজ উদ্দিন খোকন বলেছেন, ‘ইনু মিয়া সত্যিই নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন। এমনকি বর্তমান সংসদ সদস্য আগেও তাকে ভাত খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি শর্তে অনড় ছিলেন।’
প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেছেন, ‘ইনু মিয়ার মতো মানুষের ত্যাগ ও প্রতিজ্ঞা দলকে শক্তিশালী করেছে। তিনি তার কথা রেখেছেন। আজ দল ক্ষমতায়, তাই তার বাড়িতে এসে তাকে ভাত খাওয়াতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তার পরিবারের পাশে আমরা আছি, থাকব।’

