নিহত সোহরাবের স্ত্রী
তার হাসিমুখ ভুলবো কী করে

কুমিল্লায় ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত সোহরাবের স্ত্রীর আহাজারি । ছবিঃ আগামীর সময়
কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন সোহরাব হোসেন (৪০)। দিনাজপুর থেকে উঠেছিলেন চালের বস্তাবোঝাই ট্রাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় পৌঁছালে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহরাব। তার বাড়ি চলছে শোকের মাতম।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৩টায়। নিহতের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের মধ্য খালিপপুর গ্রামে। এ দুর্ঘটনায় আরও নিহত হয়েছেন একই গ্রামের আফজাল হোসেন (৩৫) সালেক (৪৫)। তাদের বাড়িতেও শোকের মাতম। এছাড়াও ওই এলাকার আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
সোহরাবের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্পষ্ট করেন, ‘গতকাল সকালে তিনি (সোহরাব) জানান, কৃষিকাজ করতে যাবেন কুমিল্লায়। সেখানে থাকবেন ৭ দিন। এজন্য তার কাপড় গোছাতে বলেন। বেলা ১১টায় বাড়ি থেকে বের হন কুমিল্লার উদ্দেশে। তিনি ভুলে যান কাস্তে নিতে। আবার ফিরে এসে নিয়ে যান। এরপর কিছুদূর গেলে ফের হাসতে হাসতে বাড়িতে এসে বলেন, রেখে গেছেন মাথাল। সেটিও নিয়ে যান হাসতে হাসতে। সেই যে গেল সেটাই আমার স্বামীর শেষ যাওয়া। তার শেষ যাওয়ায় হাসিমাখা মুখ কী করে ভুলবো?’
তিনি আহাজারি করে আরও বলেছেন, ‘বড় মেয়ে শ্বশুর বাড়ি। আমি ছোট মেয়ে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। আমাকে রাত ৯টার দিকে ফোন করে বলল, রাতে ভাত খেয়েছো? বলছি খেয়েছি। বলে, ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাল করে ঘর তালা দিয়ে ঘুমাও।’ এটাই তার সঙ্গে শেষ কথা বলে জানান সোহরাবের স্ত্রী।
সোহরাবের দুই মেয়ে। একজনের বয়স ১৭, আরেকজনের ১২। তাদের কথা ভেবে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী।
কুশদহ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আযম ‘আগামীর সময়’কে জানিয়েছেন, আমার ইউনিয়নের তিনজন নিহত ট্রাক দুর্ঘটনায়। তারা সবাই দিনমজুর। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো এখন অসহায়। পরিবারগুলোর জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চান ইউপি চেয়ারম্যান।
এছাড়াও এ দুর্ঘটনায় নিহত বাকী ৪ জনের বাড়ি বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের নিশিবাপুর ভাইগড় গ্রামে।
চারজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জোতবানী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। নিহতরা হলেন— সুমন (২১), আবু হোসেন (২৯), আব্দুর রশিদ (৫৮) ও একই গ্রামের বিষু মিয়া (৩৪)।

