যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ বৈঠকে বসতে পারে: ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে। আমরা সেখানে (পাকিস্তান) যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।’
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ অন্যদের মধ্যে সপ্তাহান্তে এক বৈঠক হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে একমত হওয়ার ‘কোনো তথ্য নেই’।
বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় দুই শহর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি শহরের নাম উঠে এসেছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল। প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল ইসলামাবাদে।
তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যেসব ইস্যুতে আলোচনা
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া ২০ বছর স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, আর ইরান পাঁচ বছরের সময়সীমা প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এ ছাড়া ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যার পরিমাণ ৪৫০ কেজির বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় চাপা পড়ে আছে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া বা এর মাত্রা কমিয়ে তিন শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

