আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবে বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২৫০

প্রতীকী ছবি
আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০ নারী, পুরুষ ও শিশু। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থী। এক বিবৃতিতে এ তথ্য উল্লেখ করে গভীর শোক জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সংস্থা দুটির তথ্য বলছে, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার দিকে যাত্রা করেছিল। তবে পথে এটি ডুবে যায় প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে।
দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের কারণে ভয়াবহ এই পরিণতি, এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ম্লান করে দিয়েছে অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশা। একই সময়ে কমে যাচ্ছে মানবিক সহায়তা। শরণার্থীশিবিরের জীবন কঠিন, অভাব রয়েছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের। ফলে নিরাপত্তা এবং ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিপদজ্জনক সমুদ্র যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলেছে, তারা যেন তাদের সংহতি জোরদার করে এবং অব্যাহত রাখে অর্থায়ন। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা যেমন নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি উপকৃত হবে তাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীও।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ যখন নতুন বছরকে বরণ করছে, তখন এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যেতে পারে নিজ দেশে।

