দেশের প্রথম ঘোড়সওয়ারি পাঠশালা

আপাতত তিনটি ঘোড়া দিয়ে শুরু হয়েছে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের পথচলা। ছবি: আগামীর সময়
ঘোড়া দেশের মানুষের কাছে শুধু সাধারণ একটি প্রাণী। কিন্তু এই প্রাণীটি যে একটি আন্তর্জাতিক খেলার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, এটা বাংলাদেশের অনেকেরই হয়তো অজানা। খেলাটির নাম ইকুয়েস্ট্রিয়ান বা ঘোরসওয়ারি খেলা।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে কৌশল ও বিভিন্ন দক্ষতা প্রদর্শন করা হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী খেলায়। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে দেশের প্রথম ইকুয়েস্ট্রিয়ান (অশ্বারোহী) ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে ফর্টিস গ্রুপ। অলিম্পিক গেমসে অন্তর্ভুক্ত ঘোড়সওয়ারিদের খেলাটি এ দেশে একেবারেই অপরিচিত। তবে বিশ্ব জুড়ে ভীষণ জনপ্রিয় খেলাটি মূলত অভিজাত শ্রেণির মানুষরা খেলে থাকেন। এই খেলাটিকে দেশে জনপ্রিয় করে তুলতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
আপাতত তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে শুরু হয়েছে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের পথচলা। ভবিষ্যতে ইউরোপ থেকে আরও ভালো জাতের ঘোড়া নিয়ে আসার পরিকল্পনা শাহাদাতের। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হর্স পোলো খেলার প্রচলন ঘটানোর পরিকল্পনা আছে ক্রীড়ানুরাগী এই ব্যবসায়ীর। ফর্টিস গ্রুপের এমন উদ্যোগে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে ২০০৯ সালে গঠিত বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনও।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফর্টিস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই ক্লাবের উদ্বোধন করতে এসে ফর্টিস গ্রুপের কর্ণধার শাহাদাত মূলত ছোটদের হাতে হর্সরাইডিং শেখানোর ইচ্ছের কথা জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা অলিম্পিকের মতো বড় আসরে এই খেলা দিয়ে দেশের নাম তুলে ধরতে পারে।
ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যায় শাহাদাতের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশ এখনো অনেক কিছুতেই পিছিয়ে আছে। বিশ্ব জুড়ে হর্সরাইডিং ও হর্স পোলো বেশ জনপ্রিয়। আমাদের তো এখানে কোনো ক্লাব নেই, কোনো টুর্নামেন্টও হয় না। সেই চিন্তা থেকেই বাচ্চাদের বৈচিত্রময় একটা খেলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই ক্লাব শুরু করলাম।’
আপাতত ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের ঘোড়া পরিচালনা শেখানোর জন্য এই ক্লাব কাজ করবে বলে জানান শাহাদাত, ‘আমরা বাচ্চাদের দিয়ে শুরু করবো। আমরা কয়েকটা স্কুলের সঙ্গে কথা বলছি। তবে ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিযোগিতামূলক আসর আয়োজনের। নইলে বাচ্চাদের এই খেলা নিয়ে আগ্রহ থাকবে না।’
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফরিদুল আকবর ভারতে ইকুয়েস্ট্রিয়ান স্পোর্টস দেখে এসে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। তবে নানা কারণেই সেই সংস্থা সেভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেনি। অল্প কিছু রাইডার ব্যক্তিগত চেষ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে অথবা অনলাইনে কোচদের সহায়তা নিয়ে রপ্ত করেছেন ঘোড়া পরিচালনার কৌশল।
ফর্টিস গ্রুপের এই উদ্যোগের প্রশংসা ঝরল ফরিদুল আকবরের কণ্ঠে, ‘আল্লাহতায়ালা একজন ব্যক্তিকে দিয়েছে খেলাটা পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য। ওনার (শাহাদাত হোসেন) নেতৃত্বে অসংখ্য ক্লাব ও ব্রিডিং ফার্ম তৈরি হবে। আমরা আশা করব ওনার যোগ্য নেতৃত্বে সারা দেশে খেলাটা ছড়িয়ে দিতে পারব।’
বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহিয়া ইসলাম নিজেও একজন পেশাদার হর্স রাইডার। অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করার কারণ জানাতে গিয়ে তার বক্তব্য, ‘অ্যাসোসিয়েশন করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের দেশে কোনো হর্স রাইডিং বা এরকম কোনো স্পোর্টসের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। তাই আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষ যেন জানে যে, এটা একটা স্পোর্টস এবং এটা দিয়েও অনেক কিছু করা সম্ভব। আমাদের অনেক ভালো ভালো রাইডার আছে, যারা দেশের বাইরে গিয়েও অনেক ভালো করতে পারবে, যদি তাদের সঠিক একটা প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হয়।’
এতদিন ফর্টিস পরিচিত ছিল ফুটবল অঙ্গনে। দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগে কয়েক বছর ধরে খেলছে তারা। বর্তমান লিগে আছে শিরোপা দৌড়ে। এ ছাড়া ফর্টিসের যুব একাডেমি থেকেও উঠে আসছে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার। এবার এই শিল্পগোষ্ঠী ঘোড়সওয়ারি গড়ে তুলতে চায়, সেই সঙ্গে চায় ইকুয়েস্ট্রিয়ানকে দেশে জনপ্রিয় করে তুলতে।















