মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিধিবিধান হালনাগাদ করতে বিএসইসির কমিটি

নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালার বিধানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য প্রকাশের (ডিসক্লোজার) ফরম্যাট, মানদণ্ড (স্ট্যান্ডার্ড) এবং নীতিমালাসহ (গাইডলাইন) বিভিন্ন বিষয় হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এই লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে কমিশনের পাঁচ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে বিএসইসি।
এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন, সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান এবং সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক মো. সাগর ইসলাম।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যেই এসব কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফান্ড ব্যবস্থাপনা, সম্পদ মূল্যায়ন এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও প্রণয়ন করা হবে কঠোর ও আধুনিক মানদণ্ড।
আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য প্রকাশের কাঠামো, মানদণ্ড এবং নীতিমালাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে তা হালনাগাদ করতে কাজ করবে এই কমিটি। এ পরিপ্রেক্ষিতে, কমিশনের পাঁচজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলো।
গঠিত কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে- মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্দেশিকা হালনাগাদ করা, যাতে নতুন বিধিমালার সঙ্গে সেগুলোর পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া বিধিমালার স্ট্যান্ডার্ড ট্রাস্ট ডিড, ত্রৈমাসিক রিপোর্টিং ফরম্যাট, ত্রৈমাসিক পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট ফরম্যাট এবং মার্জার ও কনভার্সন গাইডলাইন তৈরি করবে গঠিত কমিটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে এই ধরনের উদ্যোগ বাজারে শৃঙ্খলা ও আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিসক্লোজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ব্যবস্থা জোরদারে বিএসইসি একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন কমিটি গঠন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘নতুন বিধিমালায় মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। যদি কোনো স্কিমের ইউনিটপ্রতি গড় লেনদেন মূল্য তার ক্রয়মূল্য বা নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তবে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাস্টি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করবে। সেখানে ইউনিটহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে ফান্ডটি বেমেয়াদি করা হবে অথবা অবসায়ন করা হবে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্যই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন, যা প্রস্তাব করবে এই কমিটি।’















