১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দরজায় বার্নহাম
- যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়: বাকি আর এক এমপির সমর্থন
- ২০ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। চৌকাঠ পেরোলেই অন্দরমহল। আর মাত্র এক পা। একটি সমর্থনই দরকার। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পরবর্তী নেতাও হবেন তিনি। বিদায়ী লেবার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে এর মধ্যে বেশির ভাগ লেবার এমপির সমর্থনও পেয়ে গেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এ নিয়ে গত ১০ বছরে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখতে চলেছে দেশটির অস্থির রাজনীতি।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে গত বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির মাধ্যমে দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করে লেবার পার্টি। এতে একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী হিসেবে লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে এদিন ৩২২ জনেরই সমর্থন পান বার্নহাম। বাকি মাত্র একজন; অর্থাৎ ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেলেই তার বিরুদ্ধে আর কোনো প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকবে না।
বেশ কয়েকজন এমপি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা ভোট দিতে না পারলেও পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশনে (১৩-১৬) বার্নহামকে সমর্থন জানাবেন। এর মধ্যে যদি অন্য কেউ এই প্রতিযোগিতায় না নামেন, তবে আসছে সপ্তাহেই লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে বার্নহামকে। এরপর ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী উঠে দাঁড়ানোর সেই সুযোগও অবশ্য সীমিত হয়ে গেছে ভোটাভুটির এই সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনেই। কয়েক সপ্তাহ আগেই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র (বার্নহাম) মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে আসেন। সেখান থেকে এবার সরাসরি দেশের শীর্ষ ক্ষমতার কাছাকাছি চলে এসেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে বার্নহাম বলেছেন, দলের নেতা হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি লেবার পার্টির এমপিদের প্রতি ‘গভীরভাবে কৃতজ্ঞ’। আরও বলেছেন, দলের সর্বস্তরের কাছ থেকে তিনি সমর্থন পেয়েছেন এবং এটি ‘রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্রিটেনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিন্ন বিশ্বাসের’ প্রতিফলন।
তার বক্তব্য, ‘আমি যে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছি, তা হলো— ওয়েস্টমিনস্টারের (কেন্দ্রীয় সরকারের) হাত থেকে ক্ষমতা সরিয়ে নেওয়া; সাধারণ মানুষের উপযোগীরূপে অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানো এবং প্রতিটি এলাকায় বা পোস্টকোড এলাকায় ভালো প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।’ বার্নহামের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্টারমারও। বলেছেন, ‘একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হবেন বার্নহাম। অতীতে তার অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেন স্টারমার।’ এখন সময়ই বলে দেবে কতটা সফলভাবে উতরে যান অ্যান্ডি বার্নহাম। নাকি ব্যর্থতার গ্লানি আষ্টেপৃষ্ঠে ধরবে তাকেও। গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় বিপর্যয় এবং মেকারফিল্ডে বার্নহামের জয়ের পর থেকে স্টারমারকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দলীয় এমপিরা। বার্নহাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দেন কিয়ার স্টারমার।
৩২৩ জন এমপির মনোনয়নের পাশাপাশি বার্নহামকে দলের সঙ্গে যুক্ত ৩১টি সোশ্যালিস্ট সোসাইটি ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটির মনোনয়ন পেতে হবে। এটি হলে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভোটের আর কোনো প্রয়োজন হবে না। নির্বাচন ছাড়াই সরাসরি ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করবেন বার্নহাম।




