হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা
ওমানে পৌঁছালেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা

সংগৃহীত ছবি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে শুরু হচ্ছে আলোচনা। এ আলোচনায় অংশ নিতে ওমানের রাজধানী মাস্কটে পৌঁছেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ওমান পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নেন তারা। ওই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ছিল পাকিস্তান ও কাতার।
আইআরআইবি বলছে, সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির জন্য তেহরানে অবস্থান করে পরে ওমানে যান গালিবাফ। এ সফরের উদ্দেশ্য হলো তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ পরামর্শের মাধ্যমে একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফরের সময় দেশটির সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে গালিবাফের। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে হতে পারে আলোচনা।
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার একদিন পরই অনুষ্ঠিত হলো এই সফর। ওই আলোচনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। তার মতে, ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এ বৈঠক।
‘স্বাক্ষরিত স্মারকলিপির উদ্দেশ্য হলো আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও কাঠামো তৈরি করা এবং যুদ্ধ ও এর প্রভাব বন্ধ করা।’
তিনি আরও জানান, এ আলোচনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে একটি কাঠামো, যাতে কাজ চালিয়ে যেতে পারে কারিগরি পর্যায়ের দলগুলো এবং প্রক্রিয়াটি হয় প্রাতিষ্ঠানিক ও স্থিতিশীল ।
এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে আগে সই করা ১৪-দফা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে ৬০ দিনের আলোচনা পর্বের শুরু করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। কিন্তু আলোচনায় উপস্থিত না থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও অবমাননাকর পোস্ট এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জেরে বৈঠক স্থগিত করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল।
এক্ষেত্রে আবারও আলোচনায় বসতে ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে তেহরান।




