উগ্রপন্থীদের উত্থানে উদ্বেগ
- রাজ্য সরকার গঠনের কাছাকাছি জার্মানির এএফডি

অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা (বাঁ থেকে) আলিস ভাইডেল, টিনো ক্রুপালা ও উলরিশ জিগমুন্ড। ছবি: রয়টার্স
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যে জার্মানি উগ্র জাতীয়তাবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দেয়াল গড়ে তুলেছিল, সে দেয়ালেই এবার দেখা দিয়েছে বড় ফাটলের ইঙ্গিত। পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি রাজ্যের ক্ষমতার এতটা কাছে পৌঁছেছে দলটি।
গত রবিবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজ্য নির্বাচনে এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জার্মানির কোনো রাজ্যে এমন একটি দল সরকার গঠনের এতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, যাকে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বড় অংশ উগ্র ডানপন্থী হিসেবে দেখে।
এই ফল শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি জার্মানির রাজনৈতিক মানচিত্রে দ্রুত বদলে যাওয়া জনমতেরও ইঙ্গিত। বিশেষ করে, পূর্ব জার্মানির বহু ভোটার কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভিবাসন প্রশ্নে অসন্তোষ থেকে এএফডির দিকে ঝুঁকেছেন। এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড ফল ঘোষণার পর এটিকে দলের জন্য ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এই জয় শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টের জন্য নয়; ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের পথও খুলে দিতে পারে।
তবে ভোটে বড় সাফল্য পেলেও সরকার গঠন এখনো নিশ্চিত নয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এএফডিকে জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে। অথচ জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এত দিন ধরে এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার নীতি অনুসরণ করে এসেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের রক্ষণশীল দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)। একসময় যে রাজ্যে সিডিইউর শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখানেই এবার তাদের ভোট ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এএফডি পেয়েছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, আর সিডিইউ নেমে এসেছে প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২১ সালের নির্বাচনে সিডিইউ পেয়েছিল ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।
এএফডির উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অভিবাসন, অর্থনীতি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ। দলটি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা, আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কড়া অবস্থান এবং ইউক্রেনকে সহায়তা কমানোর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে।





