হরমুজ এড়াতে হেজাজে ফিরছে সৌদি-তুরস্ক
- তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে সরাসরি সংযুক্ত করবে রেলপথটি

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি এড়াতে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথে ফিরছে সৌদি আরব ও তুরস্ক। এ রেলওয়ে ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে সহযোগিতা জোরদার করতে গত মঙ্গলবার দুটি আলাদা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি। এদিন রিয়াদে সৌদি আরবের পরিবহন ও রসদমন্ত্রী সালেহ আল-জাসের এবং তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামোমন্ত্রী আবদুর কাদির উরালোগ্লু নিজ নিজ দেশের পক্ষে সই করেন।
এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব কার্যত ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবিত করার প্রকল্পে যুক্ত হলো। রেলপথটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে সরাসরি সংযুক্ত করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উরালোগ্লু বললেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও লজিস্টিক চেইনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় পরিবহন খাতের বাধাগুলো দূর করা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানিয়েছেন, সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক হয়ে পরিবহন রুটগুলো আবার সক্রিয় করার কাজ করছে তুরস্ক। এরই মধ্যে তুরস্ক থেকে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি পরীক্ষামূলক ট্রেনযাত্রা সফলভাবে চলাচল সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রমাণ করেছে এই রুটের বাস্তব সম্ভাবনা।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুদ্ধারের কথা বলে আসছে। এই রেলপথ একসময় ইস্তাম্বুল থেকে সৌদি আরবের পবিত্র শহরগুলো পর্যন্ত ছিল বিস্তৃত। পরিকল্পনা অনুসারে, এই রেলপথকে ভবিষ্যতে ওমান ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, পারস্য উপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে একটি বিকল্প ও নিরাপদ বাণিজ্য করিডর তৈরি করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইউরোপের মধ্যে প্রধান ট্রানজিট হাব হবে তুরস্ক। লজিস্টিক কেন্দ্র এবং জ্বালানি-বাণিজ্য করিডরের গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত হবে।
গত এপ্রিলে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথের মধ্যে সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি মান নির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো ছিল অন্তর্ভুক্ত। হেজাজ রেলপথ ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয়ের এক দূরদর্শী স্বপ্ন। ১৯০০ সালে ইস্তাম্বুলকে মক্কার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
ইসলামের পবিত্রতম দুই শহর মক্কা ও মদিনা যে হেজাজ অঞ্চলে অবস্থিত, সেই অঞ্চলের নামেই হয় এর নামকরণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের অনুদানে (কিছু স্বেচ্ছায়, কিছু বাধ্যতামূলক) অর্থায়িত এই প্রকল্প অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নির্মিত হয়।




