হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে যুক্তরাজ্য

হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সায় নেই ব্রিটেনের
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত অবরোধে যুক্তরাজ্য দেবে না কোনো সমর্থন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় কার্যকর করবে অবরোধ। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি পৌঁছেছে ১০০ ডলারের ওপরে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা প্রস্থানকারী জাহাজের ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে ‘নিরপেক্ষভাবে’। তবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে অন্য দেশে যাওয়া জাহাজ এতে বাধাগ্রস্ত হবে না।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেছেন, ব্রিটেনের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা নয়, বরং এটি খোলা রাখা। তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা যা করছি, তা হলো প্রণালিটি খোলা রাখতে দেশগুলোকে একত্র করা।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য এই অবরোধকে সমর্থন করছে না এবং কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সক্ষমতার দিক থেকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের। তার ভাষায়, ব্রিটেনের মাইন অপসারণ সক্ষমতা রয়েছে এবং তা নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে লাগানো হচ্ছে কাজে।
স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, চাপ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যকে কোনোভাবেই যুদ্ধে টেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেছেন, ‘এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থে নয়। স্পষ্ট আইনগত ভিত্তি ও পরিকল্পনা ছাড়া আমরা কোনো পদক্ষেপ নেব না।’
সরকারি এক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের প্রতি অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাজ্যের সমর্থন। একই সঙ্গে নৌ-চলাচলে কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করছে না লন্ডন।
তিনি আরও বলেছেন, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় একটি বৃহৎ বহুজাতিক জোট গঠনের জন্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাজ্য ফ্রান্সসহ অন্যরা।
স্টারমার জানান, আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মাইন অপসারণ, ড্রোনবিরোধী সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা। সংঘাত শেষ হলে নৌ-চলাচল সুরক্ষায় একটি ‘সমন্বিত, স্বাধীন ও বহুজাতিক’ কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ সপ্তাহে আয়োজন করা হবে একটি শীর্ষ বৈঠক।
তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে বড় ধরনের। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয় এই প্রণালি দিয়ে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এর ফলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উঠে গেছে ১০০ ডলারের ওপরে। যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
















