অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে রহস্যময় রুপালি গোলক, চলছে তদন্ত

উৎস শনাক্তে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের একটি সৈকতে ভেসে উঠেছে রহস্যময় কিছু বড় আকারের রুপালি গোলক। আর এর উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
টাউনসভিলের উত্তরে ফরেস্ট বিচে পাওয়া কঠিন পদার্থের তৈরি ছয়টি গোলক মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে সেগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি (এএসএ)।
বিপজ্জনক পদার্থ থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় পুলিশি পাহারায় সুরক্ষাবস্ত্র পরিহিত কর্মীদের গোলকগুলো বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সংরক্ষণের ড্রামে (হ্যাজম্যাট ব্যারেল) রাখতে দেখা গেছে।
কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট রবিবার জানায়, ঘটনাস্থলের চারপাশে ৫০ মিটার এলাকা নিরাপত্তার জন্য ঘিরে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় কেউ সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখতে পেলে সেটিতে স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।সংস্থাটি আরও বলেছে, এমন কোনো বস্তু দেখলে মানুষ যেন দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে জরুরি সেবায় ফোন করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ধারণা করছেন, গোলকগুলো মহাকাশযানের জ্বালানির ট্যাংক হতে পারে। সেক্ষেত্রে এগুলোর ভেতরে অত্যন্ত দাহ্য বা রাসায়নিকভাবে সক্রিয় কোনো পদার্থের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।
তবে এগুলো ঠিক কোন মহাকাশযান থেকে এসেছে বা কার মালিকানাধীন ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ের মালিক লিসা স্কোবি বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গোলকগুলোর উৎস জানতে আগ্রহী।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে বলছিলেন, ‘এখানে সাধারণত খুব শান্ত পরিবেশ থাকে, তেমন কিছু ঘটে না। তাই হঠাৎ এত তৎপরতা এলাকায় বেশ কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি করেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এ ধরনের রহস্যময় বস্তু ভেসে আসার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।
২০২৩ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কাছে একটি সৈকতে ভেসে আসা বিশাল ধাতব গম্বুজাকৃতির বস্তুকে ভারতের এক রকেটের অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পরে ভারতের মহাকাশ সংস্থার এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, সেটি তাদের পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি)-এর একটি অংশ ছিল।
এ ছাড়া ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ার একটি প্রত্যন্ত তৃণভূমিতেও এ ধরনের একটি গোলাকার বস্তু পাওয়া যায়।
সে সময় বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, সেটি সম্ভবত কোনো চালকবিহীন রকেটের জ্বালানি ট্যাংক বা ব্লাডার ট্যাংক ছিল, যাতে ছিল অত্যন্ত অস্থির প্রকৃতির জ্বালানি হাইড্রাজিনের অবশিষ্টাংশ।





