ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট কেন এত বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের স্যালুট নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ বাড়িয়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য দেড় ট্রিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুমোদিত হলে এটিই হবে এখন পর্যন্ত দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট।
আজ মঙ্গলবার ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। এতে যুক্ত হয়েছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল প্রায়োরিটিজ’ নামে একটি খাত, যা আগে ছিল না।
কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, ড্রোনে আধিপত্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি অন্তর্ভুক্ত এ খাতে।
গত বছর কংগ্রেসের কাছে ৮৯২.৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে যোগ করা হয় অতিরিক্ত ১৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক বাজেট। এতে মোট ব্যয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাড়ায় এক ট্রিলিয়ন ডলার।
এই বাজেটে ১৮টি যুদ্ধজাহাজ ও ১৬টি সহায়ক জাহাজ কেনার জন্য বরাদ্দ ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটি ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ উদ্যোগের অংশ, যা ১৯৬২ সালের পর সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাণ পরিকল্পনা।
এবার প্রতি বছর ৮৫টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা। ১০২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ বিমান কেনা ও গবেষণা-উন্নয়নে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের বি-২১ বোমারু বিমানের জন্য চাওয়া হয়েছে ৬.১ বিলিয়ন ডলার।
ড্রোন খাতে কর্মকর্তারা বিষয়টি বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ড্রোন যুদ্ধ ও প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে। এতে প্রস্তাব রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্ল্যাটফর্ম ও যুদ্ধক্ষেত্রের লজিস্টিকসের জন্য ৫৩.৬ বিলিয়ন ডলার এবং অস্ত্রশস্ত্র, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থার জন্য ২১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের।
ডিফেন্স অটোনোমাস ওয়ারফেয়ার গ্রুপের অর্থায়ন ২২৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে পৌঁছাবে প্রায় ৫৪ বিলিয়নে। কর্মকর্তারা জানান, এই অর্থের বড় অংশই বিদ্যমান প্রযুক্তি প্রয়োগে ব্যয় হবে এবং এই গ্রুপটি কার্যত অন্তর্ভুক্ত করেছে আগের ড্রোন উদ্যোগকে।
বাজেটে রয়েছে একাধিক বছরের জন্য অস্ত্র ক্রয় চুক্তির প্রস্তাবও, যাতে উৎপাদন বাড়াতে স্থিতিশীলতা পান বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীরা।
এতে রয়েছে সামরিক সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও। কনিষ্ঠ সদস্যদের জন্য ৭ শতাংশ, মাঝারি পর্যায়ের জন্য ৬ শতাংশ এবং উচ্চপদস্থদের জন্য ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে আরও ৪৪ হাজার নতুন সদস্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৬ সালে ২০ হাজারের বেশি সদস্য বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাজেটে ইরান যুদ্ধের জন্য রাখা হয়নি কোনো বরাদ্দ। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সময়সূচির কারণে যুদ্ধ-সম্পর্কিত ব্যয় মেটাতে আনতে হতে পারে আলাদা সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব।
মোট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই বাজেটের মধ্যে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল বরাদ্দ। সম্পূরক বাজেট হিসেবে ধরা হয়েছে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার, যা পাস করতে প্রয়োজন হবে বিশেষ ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া।
ভাষান্তর : আহসান হাবিব মারুফ

