যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন
ট্রাম্প থেকে দূরে থাকছেন ঝুঁকিপূর্ণ রিপাবলিকান প্রার্থীরা

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রায় দুই মাস বাকি। কংগ্রেসের রশি কাদের হাতে থাকবে? ডেমোক্র্যাটরা কি তা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মেজরিটি ছিনিয়ে নিতে পারবেন? ডেমোক্র্যাটদের পাল্লা ভারী। জরিপগুলো তাই বলছে। অস্থিরতা বিরাজ করছে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থীর মধ্যেও। তাদের ধারণা, হয়তো ট্রাম্পের কারণেই তারা হারতে পারেন। ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তার কারণে রিপাবলিকান পার্টির অনেক প্রার্থীই শঙ্কিত। নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এমন রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের ট্রাম্প থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। সিএনএন।
বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ ও তেল-গ্যাসের বৃদ্ধিতে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে, যা শতকরা ৩০ ভাগেরও কম। সম্প্রতি আইওয়া থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য মারিয়ানেট মিলার— মিকস ও জ্যাক নান প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দুজনের আসনই ঝুঁকিপূর্ণ। গেল সপ্তাহে তারাসহ সাত সদস্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দক্ষিণ ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের সদস্য মারিয়া এলভিরা সালাজার একটি বিজ্ঞাপনে বলেছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছে’। কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোর একদল রিপাবলিকান তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তারা সম্প্রতি ট্রাম্প কর্তৃক বিদেশি গরুর মাংসের ওপর শুল্ক স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অ্যারিজোনার প্রতিনিধি জুয়ান সিসকোমানি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করছেন। এসব জনপ্রতিনিধিরা অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করার উপায় খুঁজছেন।
ডেমোক্র্যাটরা কানসাস, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো কট্টর রিপাবলিকান সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোয়ও তাদের নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার করছেন। সেখানে তারা ভালো করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের বিরোধিতায় নেমেছেন অনেক রিপাবলিকান। ট্রাম্প এ ধরনের সমালোচনা আগে সহ্য করতেন না। কিন্তু এবার তিনি কিছুটা নমনীয়। যারা তার বিরোধিতা করছেন তাদের টার্গেট করে নেতিবাচক কিছু বলছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে একজন রিপাবলিকান কর্মী বলেছেন, ‘প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করতেন না। এবার হয়তো বুঝতে পেরেছেন। কংগ্রেসে জিততে হলে দলের সদস্যদের কিছুটা নমনীয়তা দেওয়া প্রয়োজন।’
রাজ্যব্যাপী তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা একজন রিপাবলিকান কর্মী বলেছেন, “ট্রাম্পের অবস্থান থেকে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে— এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা ‘ফরমান’ আসেনি। বরং হোয়াইট হাউজের মনোভাবে বোঝা যায়, নির্বাচনে জিততে আপনাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করুন।”
রিপাবলিকান পার্টির মুখপাত্র নাটালি বালদাসারে এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘রিপাবলিকানরা ঐক্যবদ্ধ এবং একই অভিমুখে এগিয়ে চলেছে’, তবে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেছেন। বালদাসারে বলেছেন, ‘দিনশেষে আমাদের কাছে জয়লাভই মুখ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
সিনেটে রিপাবলিকানের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি (দুজন স্বতন্ত্রের সমর্থনসহ)। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের আসন রক্ষাসহ সিনেটে চারটি ও হাউজে ছয়টি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে মেজরিটি দলে পরিণত হতে পারবে। আর টেনে ধরতে পারবে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। এদিক থেকে ৩ নভেম্বর আমেরিকানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা মরণ কামড় দিচ্ছেন কংগ্রেস তাদের হাতে রাখতে।



