যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: কীভাবে হয়, কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন এক নারী । ফাইল ছবি / রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার বছরের মেয়াদের মাঝপথে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না। বরং কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর একটি কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ, অন্যটি সিনেট।
প্রতিনিধি পরিষদে মোট ৪৩৫টি নির্বাচিত আসন রয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে এসব আসন ভাগ করা হয়। প্রতিটি আসনের জন্য নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা রয়েছে। ওই এলাকার ভোটাররা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। তাই প্রতি দুই বছর পরপর এই কক্ষের সব ৪৩৫টি আসনে নির্বাচন হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছর এবং তার দুই বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ভোটাররা প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
অন্যদিকে, সিনেটে মোট ১০০টি আসন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের প্রতিটি থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব আসনে একসঙ্গে নির্বাচন হয় না। প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। এবার সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন।
কীভাবে ভোট হয়
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে, সিনেট নির্বাচনে একটি রাজ্যকে একটি নির্বাচনী এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজ্যজুড়ে ভোটাররা সিনেটর নির্বাচন করেন।
সাধারণ নির্বাচনের আগে অনেক রাজ্যে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রাইমারি নির্বাচন হয়। পরে দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একই দিনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় পদের নির্বাচনও হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে কি প্রেসিডেন্ট বদলান?
না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না। ফলে কোনো দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। ডেমোক্র্যাটরা এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা কার্যত সীমিত হতে পারে। বিরোধী দল এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত আইন আটকে দিতে, বাজেট নিয়ে দরকষাকষি করতে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তদন্ত করতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল স্পিকার নির্বাচন ও বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পায়। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলও আইন প্রণয়ন এবং প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। তবে সেখানে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। সিনেটে বিচার শেষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তাকে পদ থেকে সরানো যায়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে তাই প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার পরীক্ষাও বলা হয়। ভোটাররা সাধারণত সরকারের কাজ, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতি বিবেচনা করে ভোট দেন। ইতিহাসে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রায়ই এ নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন হারিয়েছে। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।
অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বদল না হলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। আর সেই পরিবর্তনই প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদের শাসন পরিচালনায় বড় প্রভাব ফেলে।
সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স






