সপ্তাহ জুড়ে ইরানের হামলায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে গত দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে পেন্টাগন। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, ৭ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বিমান হামলা শুরুর পর থেকে ‘প্রায় ১০০ সেনাসদস্য কোনো না কোনো মাত্রায় আহত হয়েছেন’। তাদের মধ্যে এরই মধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন ৯৬ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার অভিযোগ ওঠার পর পারনেল এক্সে লিখেছেন, ‘তারা আবারও যুদ্ধে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেছেন, আহতদের ‘বেশির ভাগই মৃদু মাত্রার মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায়’ ভুগেছেন।
পারনেলের দাবি, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের তথ্য সামরিক বাহিনী গোপন করেনি বা বিকৃতভাবে উত্থাপন করেনি। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বললেন, ‘হতাহতের তথ্য গোপন করা হয়েছে— এমন দাবি ভিত্তিহীন। যুদ্ধে নিহত তিন সেনাসদস্যের ঘটনার পর মার্কিন জনগণকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলতেই এসব দাবি করা হচ্ছে।’
এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পেন্টাগন জানায়, শুক্রবার রাতে জর্ডানে একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গনজালেস।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার স্থানে পাওয়া মরদেহের অংশবিশেষ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ওই হামলায় নিহত বলে ধারণা করা তৃতীয় এক সেনাসদস্যের সন্ধানও চলছে। এ ছাড়া শনিবার উত্তর ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী।
ভঙুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে পেন্টাগন। যুদ্ধ নিয়ে তাদের সর্বশেষ বড় ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছিল মে মাসের শুরুতে।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের মজুদ কতটা কমেছে এবং ইরান কীভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে ও পুনর্গঠন করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ট্রাম্পের জনসমর্থনেও পড়েছে এর প্রভাব।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান তদারককারী সেন্টকম জানিয়েছে, সোমবার রাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে দশম দফা হামলা সম্পন্ন করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এ হামলা।




