ভীতি নাকি নিয়ন্ত্রণ
ট্রাম্পকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ বলেই ইউটার্ন চ্যাটজিপিটির

ট্রাম্পের সঙ্গে একই স্তরে রাখা হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—গণতন্ত্রের জন্য কতটা হুমকি? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। এক গবেষণায় ট্রাম্পকে ১০-এর মধ্যে ৯ নম্বর গণতান্ত্রিক হুমকি হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল চ্যাটজিপিটি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর একই ধরনের প্রশ্নে বদলে যায় তার উত্তর!
আগের মূল্যায়নে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় চাপ প্রয়োগ এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তাকে ৯/১০ নম্বর দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত, কংগ্রেস, অঙ্গরাজ্য সরকার, গণমাধ্যম ও নির্বাচনব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখছে—এই যুক্তিতে তাকে সর্বোচ্চ ১০ দেওয়া হয়নি।
আর এখানেই তৈরি হয় বিস্ফোরক তুলনা। ট্রাম্পের সঙ্গে একই ৯/১০ স্তরে রাখা হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো ও হুগো চাভেজ, বেলারুশের আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস এবং জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবেকে। তালিকায় একমাত্র ১০/১০ পান নাৎসি জার্মানির নেতা অ্যাডলফ হিটলার।
কিন্তু এরপরই আসে নাটকীয় মোড়।
ঘটনাটি নিয়ে ফক্স নিউজ ওপেনএআইয়ের কাছে জানতে চাইলে একই ধরনের প্রশ্নে চ্যাটজিপিটি আর কোনো মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সংখ্যাগতভাবে গণতন্ত্রের হুমকি হিসেবে রেট দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে গুণগত বিশ্লেষণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—চ্যাটজিপিটির উত্তর বদলাল কেন? এটি কি মডেলের নীতিগত অবস্থান, নাকি রাজনৈতিক চাপের প্রভাব?
এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিতর্ক। মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের গবেষকদের দাবি, বিভিন্ন এআই মডেল একই রাজনৈতিক প্রশ্নে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন উত্তর দিতে পারে। তবে ওপেনএআইয়ের বক্তব্য, চ্যাটজিপিটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য তৈরি এবং একটি নির্দিষ্ট উত্তরের ভিত্তিতে পুরো মডেলের আচরণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
গবেষণাটি চালানো হয় ২৬ ও ২৭ আগস্ট ২০২৬। গবেষকেরা একই প্রশ্ন একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে করে তাদের উত্তর তুলনা করেন। চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি পরীক্ষায় ছিল মাইক্রোসফটের কপাইলট, ডিপসিক, গুগলের জেমিনি, এক্সএআইয়ের গ্রক, মেটা এআই ও পারপ্লেক্সিটি।
তবে সব এআইয়ের উত্তর এক ছিল না। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জেমিনি, গ্রক ও মেটা এআই ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে কম গণতান্ত্রিক হুমকি হিসেবে দেখিয়েছে।
ফলে বিতর্কটি এখন শুধু ট্রাম্পকে ঘিরে নেই। আরও বড় প্রশ্ন সামনে—রাজনৈতিক প্রশ্নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কতটা নিরপেক্ষ? আর একটি এআইয়ের উত্তর বদলে যাওয়ার পেছনে কাজ করে কোন তথ্য, নীতি কিংবা নিয়ন্ত্রণ?
ট্রাম্পকে ৯/১০ বলার পর চ্যাটজিপিটির সেই অবস্থান থেকে সরে আসাই তাই নতুন করে উসকে দিয়েছে এআইয়ের ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’ নিয়ে তুমুল বিতর্ক।
সূত্র: ফক্স নিউজ, মিডিয়া রিসার্চ সেন্টার, ওপেনএআই ও নিউজবাস্টার্স





